চট্টলবীরকে লিখা মেয়ে টুম্পা’র সেই চিঠি এখনও চট্টগ্রামের মানুষের চোখে অশ্রু আনে

Chattala24
  • 845
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    845
    Shares
আজ ১৭ অক্টোবর চট্টলবীর খ্যাত প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধিরীর কন্যা ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা’র ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী । ২০০৮ সালের ১৭ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর দূয়ারে দাঁড়িয়ে কারাবন্ধি পিতাকে লিখেছিলেন এক আবেগঘন চিঠি৷ সেটাই ছিলো ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার জীবনের প্রথম এবং শেষ চিঠি ।
‘প্রিয় বাবা, তোমার শূন্যতা খুব বেশি অনুভব করছি। সকালে জেগে ওঠার জন্য এখন আর কেউ বকাবকি করে না। বাড়ির যে গাছগুলোতে রোজ পানি ছিটিয়ে সজীব করে রাখতে তুমি, তারাও এখন খুব বিষণ্ন, নির্জীব। ট্রাফিক সিগনালে লালবাতি জ্বলে উঠলে যে ভিখারীটি গাড়ির কাচের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেও তোমার বেশ অভাববোধ করছে। আমি, আমরা সবাই তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি ফিরে এসো বাবা। একবার আমি তোমাকে ড্যাড বলে ডাকতে চাই’-ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা।
১/১১’র সময় গ্রেফতারের পর কারাগারে থাকাকালে চিঠিটি লিখেছিলেন টুম্পা। ক্যান্সার আক্রান্ত টুম্পা তার মৃত্যুর আগে পিতার সঙ্গে শেষ দেখা করতে পারেনি। এমনকি টুম্পাকে মৃত্যুর আগে শেষ দেখার জন্য চট্টলবীর কে প্যারোলে মুক্তিও দেয়া হয়নি। পরে ছাড়া পেলেও তাকে ব্যাংককে যেতে সরকার তালবাহানা করে যাত্রা বিলম্বিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসেই তিনি টুম্পার মৃত্যু সংবাদ পান। এ নিয়ে এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী আমৃত্যু আক্ষেপ করে গেছেন।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন টুম্পা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, টুম্পা অনেক সাধাসিধে ছিল। তার বাবা মেয়র- এই বিষয়টি আমরা অনেকেই জানতাম না। এক-এগারোর সময় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হলে জানতে পারি টুম্পা তার মেয়ে।
ড. অনুপম সেন বলেন, টুম্পা তার মৃত্যুর আগে পিতার সঙ্গে শেষ দেখা করতে পারেনি। সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার টুম্পার বাবার প্রতি নির্দয় আচরণ করে। টুম্পাকে দেখার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি মুক্তি পাওয়ার পরও ব্যাংককে যেতে সরকার তালবাহানা করে যাত্রা বিলম্বিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসেই তিনি টুম্পার মৃত্যু সংবাদ পান। এটা শুধু মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য নয়, আমাদের সকলের জন্য একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *