চমেক হাসপাতালে দুর্নীতির আলামত সরাতে নথি উধাও!

Chattala24
  • 59
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    59
    Shares

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে ‘চাঁদাবাজি, সরকারি-বেসরকারি ঠিকাদারি, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন-ক্লিনিক বাণিজ্য’ নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। এর কেন্দ্রে রয়েছেন বিতর্কিত চিকিৎসক নেতা ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তিনি। দুদক ডা. ফয়সাল ইকবালের জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদের খোঁজও নেওয়া শুরু করেছে।

হাসপাতালে বিভিন্ন টেন্ডারের নথি চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চিঠি পৌছানোর পরেই সেখানে থাকা অনেক রেকর্ডপত্রের হদিস মিলছে না বলে জানা যায়। এখন পর্যন্ত এরকম উধাও হয়ে যাওয়া ৩১টি নথি সম্পর্কে জানা গেছে। এই নথিগুলো ২০১৭-১৮২০১৮-১৯ অর্থবছরের। এদিকে নথি উধাওয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে টেন্ডার শাখার সাবেক এক কর্মচারীকে চমেক আনসার ক্যাম্পে গত দুদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানা যায়।

গত দুই বছরের রেকর্ডপত্র উধাও হওয়ার পাশাপাশি এদিকে প্রচার করা হচ্ছে, পুরনো নথি ধ্বংসের অংশ হিসেবে চমেক হাসপাতালের স্টোররুমে থাকা ২০০৮ থেকে ২০১১ সালে হওয়া টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র ইতিমধ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একেও দুর্নীতির আলামত সরিয়ে ফেলার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দুই প্রধান হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গত ১২ বছরের বিভিন্ন তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় দুদক।

একজন চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, চমেক হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার খাবার সরবরাহ ও আউটসোর্সিং ব্যবসাসহ বিভিন্ন সরবরাহ কাজের নিয়ন্ত্রণ, মামার প্রতিষ্ঠান জমজম এন্টারপ্রাইজসহ অন্তত তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেনামে টেন্ডারের কাজ হাতিয়ে নেওয়াসহ নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চমেক হাসপাতালে শুধু ২০১৯-২০২০ অর্থবছরেই প্রায় ৪২ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগও রয়েছে উক্ত চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, টেন্ডারের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি চমেক হাসপাতালে পৌঁছার পর থেকে স্টোররুমে থাকা বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সরিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চমেক হাসপাতালের রেকর্ডকিপার ও টেন্ডার শাখার প্রধান মঈনুদ্দীন আহমদ এর অন্যতম প্রধান হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
১০ বছর ধরে টেন্ডার শাখার প্রধান হিসেবে কাজ করে আসছেন। এই সময়ে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে চমেক হাসপাতালে। মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে শুরু থেকেই।

দুদকের চিঠি যাওয়ার পরদিন টেন্ডার শাখার প্রধান মঈনুদ্দীন স্টোররুমে ঢোকেন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র রাখা হয়। এরপর গত বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি আবার স্টোররুমে যেতে চাইলে নথি গায়েবের তৎপরতা আঁচ করতে পেরে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাকে ঢুকতে বাধা দেন বলে জানা যায়।

1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *