চসিকের ভাগাড় থেকে মধু আহরণকারীদের গাত্রদাহ শুরু হয়ছে: সুজন

Chattala24
  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    25
    Shares

দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে অবৈধ দখল এবং কর্পোরেশনের ভাগাড় থেকে উচ্ছিষ্ট মধু আহরণকারী মৌমাছিদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমি জনগণের হাঁটাচলার পথ জনগণকেই ফিরিয়ে দিতে চাই। জনগণের সম্পদ কারও দখল করার অধিকার নেই।

যতদিন দায়িত্বে আছি ততদিন আমার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হকার হোক আর যত প্রভাবশালীই হোক রাস্তা কিংবা ফুটপাত কোনোভাবেই দখল করা যাবে না। আমার এ উদ্যোগ চলমান থাকবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নগরের অলংকার মোড় থেকে তাসফিয়া পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং রোডের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিক পরিদর্শনকালে প্রশাসক নগরবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

এ সময় অলংকার মোড়ের ফুটপাত দখল করে সারিবদ্ধ দোকানগুলো তাৎক্ষণিক তুলে দেন তিনি। চলতি পথে ফুটপাত দখল করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আইনে পেলে তিল পরিমাণ জায়গাও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ইদানীং দেখা যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ তৎপরতা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাকালীন আগে উচ্ছেদ করা ফুটপাত আবার সেই আগের মতো দখলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমার কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়শই তথ্য আসছে। তাই আমরা তাদের সতর্ক পর্যবেক্ষণ করছি। নিউমার্কেট এলাকার পরিস্থিতি এতদিন আপনারা দেখেছেন। আর এখন বদলে গেছে নগরের চিরচেনা সেই ফুটপাতের চেহারা। থেমেছে হকারদের দৌরাত্ম্য। চলাচলের পথে নেই ভাসমান দোকানপাট। হকারদের শৃঙ্খলিত করার কারণে সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে রাস্তাঘাটে। জনগণ এখন নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে পারছে। স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাতায়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না কেউ। এমন অবস্থায় ফিরেছে নগর। আমি মনে করি প্রচেষ্টা আর নাগরিক মূল্যবোধ থাকলে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি বাসযোগ্য নগর রেখে যেতে পারবো।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ফুটপাতে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। ফুটপাতে রেখে যাওয়া চৌকি অপসারণ করা হবে। তিনি পিসি রোডে বসবাসকারীদের আরও কিছুদিন ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানসহ নানাবিধ বিষয়ে নাগরিকরা উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আশার বাণী হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে এ সড়ক প্রাণ ফিরে পাবে।

এরপর প্রশাসক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যান্ড রোড পরিদর্শনে যান। সেখানে চলমান মেকাডম কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ সড়কে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচল করে বিধায় কাজের গুণগতমান অবশ্যই ঠিক রাখতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এ নগর আমাদের আপনাদের সবার। আমরা একদিন থাকবো না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই নগরে বসবাস করবে। তাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের।

পরিদর্শনকালে প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব, বিপ্লব দাশ, ঠিকাদারদের প্রতিনিধি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *