জাতিসংঘের এই সভাকক্ষটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Chattala24
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু এবং নিজে সশরীরে ১৬ বার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের এই সভাকক্ষটি (সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ) আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের।
আজ শনিবার (২৬ শে সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-র ৭৫ তম অধিবেশনে ভার্চ্যুয়াল ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সেই ভাষণই ছিল বাংলা ভাষায় জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রথম কোনো ভাষণ। জাতির পিতার ভাষণকে ‘বহুপাক্ষিকতাবাদের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতির পিতার সেই ভাষণ আজও প্রাসঙ্গিক।

                          তাঁর সেই ভাষণই ছিল বাংলা ভাষায় জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রথম কোনো ভাষণ। জাতির পিতার ভাষণকে ‘বহুপাক্ষিকতাবাদের বহিঃপ্রকাশ’- হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতির পিতার সেই ভাষণ আজও প্রাসঙ্গিক।

ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের অংশবিশেষ তুলে ধরেন তিনি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘জাতিসংঘ সনদে যে মহান আদর্শের কথা বলা হয়েছে তা আমাদের জনগণের আদর্শ এবং এই আদর্শের জন্য তারা চরম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এমন এক বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনে বাঙালি জাতি উৎসর্গকৃত, যে ব্যবস্থায় সকল মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে।’
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এই বহুপাক্ষিকতাবাদের মাধ্যমে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এ মহামারি আমাদের উপলদ্ধি করতে বাধ্য করেছে যে এ সংকট উত্তরণে বহুপাক্ষিকতাবাদের বিকল্প নেই। জাতিসংঘের ৭৫তম বছর পূর্তিতে জাতিসংঘ সনদে অন্তর্নিহিত বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি আমাদের অগাধ আস্থা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও বহুপাক্ষিকতাবাদের আদর্শ সমুন্নত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

                                       জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঙালি জাতির জন্য এ বছরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ বছর আমরা আমাদের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী  উদযাপন করছি। বঙ্গবন্ধুর জীবন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাফল্য আমাদের কোভিড-১৯-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেমন সাহস জোগায়, তেমনি সংকটের উত্তরণ ঘটিয়ে নূতন দিনের আশার সঞ্চার করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে সকল বঞ্চিত ও উন্নয়নকামী দেশ ও মানুষের পক্ষ থেকে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
জাতির জনককে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার সেই বিভীষিকাময় ঘটনাও ভাষণে উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এরকম ঘটনা যেন কোথাও আর না ঘটে— সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার পিতা এবং বাঙালি জাতির পিতা, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা, আমার তিন ভাই, দুই ভাতৃবধূসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে। আমরা দুই বোন দেশের বাইরে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। শরণার্থী হিসেবে আমাদের ছয় বছর দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। আমি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করছি এ জন্য যে পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম জঘন্য, নির্মম ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড যেন আর না ঘটে।

                         সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রত্যয়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে জাতি ও বিশ্বের নিকট এটিই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *