পেঁয়াজের ঝাঁজ ছাড়তে গিয়ে এবার বিপাকে পড়লো ভারত!

Chattala24
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

চট্টলা24 প্রতিবেদক: বেশি দিন আগের কথা না, এক যুগ আগেও ভারতের গরুর ওপর বাংলাদেশের কোরবানি নির্ভর করত। প্রতি বছর কোরবানি এলেই ভারত গরু দেবে কি দেবে না— এই নিয়ে শঙ্কা দ্বিধা এবং আতঙ্ক কাজ করত। মাঝে মাঝেই ভারত বাংলাদেশের গরু রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করত, অযাচিত কারণে। ফলে বাংলাদেশের কোরবানিতে সংকট দেখা দিত। আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই দেখব, ২০০৪-০৬ সালে ঈদুল আজহায় বাংলাদেশে কোরবানির গরুর সংকট দেখা দিয়েছিল ভারতের অযাচিত সিদ্ধান্তের কারণে। সে সময় ভারত বাংলাদেশে গরু প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল এবং সীমান্তগুলোতে কঠোর নজরদারি রেখেছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে দিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে গরুর উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে আলাদা নজর দেয়া হয়।

                                 পেঁয়াজের ঝাঁজ দেখাতে গিয়ে এবার বিপাকে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দেশটি পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। এদিকে রপ্তানি না করায় জোগান বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। পচে যাচ্ছে ভারতে আটক ১৬৫ ট্রাক পেঁয়াজ। এ ছাড়া ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভ করেছেন ভারতের কৃষকরা। একই দাবি তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এ ঘটনাকে ভালোভাবে নেয়নি বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে নোট দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভারতের একমাত্র প্রতিবেশী বাংলাদেশ যার সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক রয়েছে আর পেঁয়াজকাণ্ডে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টির জন্যে অনুতপ্ত হয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

                         অন্যদিকে কোরবানির ঈদের আগে ভারত গরু পাঠানো বন্ধ করে দিলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সে ধকল কাটিয়ে উঠে এখন দেশের খামারিরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। এরপর পুরনো পথেই হাঁটছে ভারত, তবে সঙ্গী এবার পেঁয়াজ। পেঁয়াজকাণ্ডেও ভারতকে মোকাবিলার কথা ভাবছে বাংলাদেশ, যেভাবে গরু সংকটে মোকাবিলা করা হয়েছিল।

                        এদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। সে দেশের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের দাম পড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে পেঁয়াজ নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’

                                তিনি জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন দেশটির ব্যাঙ্গালোর, নাসিক, ইন্দোর অঞ্চলের কৃষকরা ইতোমধ্যেই বলেছেন, পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করেন, তা না হলে তারা ভারতের বাজারেই পেঁয়াজ বিক্রি করবেন না। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘এসব কারণে আমরা আশা করছি, কৃষকদের সেই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এমনও হতে পারে, ইচ্ছা থাকলেও খুব বেশি দিন তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখতে পারবে না। পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে হতে পারে। খুব কম সময়ের মধ্যে আবারও পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু হতে পারে বলেও আমরা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে জেনেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *