বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দেখিয়ে আসামীকে চার্জশিট থেকে বাদ

Chattala24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘বন্দুকযুদ্ধে’ আসামি নিহত- তাই অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়লো নাম। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন, আসামি জীবিত, আদালতে আসেন হাজিরা দিতে।

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। শুধু কি নামের মিল, না অন্য কোন কারণ, না মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা। ঘটনার রহস্য বের করতে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডিবির এক ডিসিকে।

২০১৮ সালে বায়েজিদ থানার রৌফবাদ এলাকায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা, যার আসামি ৭ জন। পরের বছর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই মামলার অন্যতম আসামি জয়নাল বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন দাবি  করে তাকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। সম্প্রতি ওই মামলার আসামি জয়নাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে প্রকাশ পায় আসল ঘটনা।
মামলার আসামি মোঃ জয়নাল বলেন, ‘আমি বলে মৃত। আমি বললাম কখন মরলাম? উকিলকে কল করলাম, উনি বললো তোমার কোন সমস্যা হবে না। এতটুকুই জানতে পেরেছি। পরে আবার বাসায় এসে নোটিশ দিয়ে গেছে।’
জীবিত আসামিকে মৃত দেখিয়ে বাদ দেওয়ায় এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘আগামী মাসের ১৩ তারিখ ওসি সাহেব, দারোগা সাহেব, আসামী পক্ষের সবাই, বাদি পক্ষের সবাই গিয়ে হাজিরা দেয়ার জন্য বলেছে আমাকে।’

                                   ২০১৯ সালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় আমিন জুট মিল এলাকার জয়নাল। নিহতের পরিবারের দাবি স্থানীয় কাউন্সিলরের ইন্ধনে পুলিশ জয়নালকে হত্যা করেছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত জয়নালের মা জোহরা বেগম বলেন, ‘এটা মোবারকের পিএস শামসু করাইছে। মোবারক আলী আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলো। আমি টাকা দেইনি। আমি বলেছি কত টাকা লাগবে। সবার সামনে আমাকে বলেনি। আমি এর সুুষ্ঠু বিচার চাই।’

                                              মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপংকর চন্দ্র রায় জানান দুই আসামির নামে মিল থাকায় ভুলবশত এমন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মামলার আসামি জয়নাল আরেকজন, আর বন্দুকযুদ্ধে যে নিহত হয়েছে সে জয়নাল আলাদা। আমি ভেবেছি আমার জয়নালই মারা গেছে, ভুলক্রমে তাই জয়নালকে আমরা চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছি।’

                           তবে এ ব্যাপারে সদ্য নিযুক্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ব্যক্তির অপরাধের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত পেশাদারভাবে বিষয়টা ডিল করবো। ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। প্রত্যেককেই যার যার ভুল ত্রুটির দায় নিতে হবে।’
এর মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *