বিপ্লব উদ্যানে চুক্তির শর্ত বহির্ভূত নির্মিত অংশ ভেঙ্গে দিল চসিক

Chattala24
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    32
    Shares

গত ২৫ শে আগস্ট চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন নগরীর বিপ্লব উদ্যান পরিদর্শনে গিয়ে চুক্তি বহির্ভূত দোকানের বর্ধিত অংশ ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে সতর্ক করেছিলেন। এরপর গণশুনানি ও পরিদর্শন শেষে চুক্তির শর্ত বহির্ভূত বড় আকারের দোকান ও দ্বিতল অবকাঠামো নির্মাণ করায় দোকানগুলো বন্ধের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২৬ শে আগস্ট লিখিত নোটিশ প্রদান করা হলে সেই থেকে ওই উদ্যানের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে।

                    সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে চুক্তি বহির্ভূত নির্মিত দ্বিতীয় তলার দোকানগুলো ভেঙে দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বৃহস্পতিবার (১লা অক্টোবর) চসিক-এর অভিযান দল দোকানগুলো ভেঙে দেয়।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চসিক এর  বিভিন্ন নির্দেশ ও অভিযানে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করেছে।

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় তলায় নির্মিত ১৫টি দোকান ভেঙে ফেলতে এক সপ্তাহর সময় দিয়েছিল চসিক। সেদিন বিপ্লব উদ্যানে নির্মিত নকশা বহির্ভূত এক সারি বসার স্থায়ী আসনও অপসারণ করা হয়।

                          চসিক এর প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম বলেন, সময় দেওয়া হয়েছিল দ্বিতীয় তলার নকশা বহির্ভূত দোকান অপসারণের জন্য। মামলা করার জন্য নয়। তারা মামলা করেছে বলে শুনেছি। আজ আমরা দুই তলার চুক্তি বহির্ভূত ১৫টি দোকান অপসারণ করেছি।
এদিকে নালিশি মামলার বিষয়টি জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আদালতে মামলা করেছি। তারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। মীমাংসার জন্য মৌখিকভাবে জানিয়ে এবং উকিল নোটিস দিয়েও জবাব পাইনি। তাই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলেছে।

চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে বুধবার মামলাটি করার পর বৃহস্পতিবার (১লা অক্টোবর) চসিক এর অভিযান চলে।

মামলার বিষয়ে চসিক এর আইন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, মামলা হয়েছে বলে আজ জেনেছি। এ বিষয়ে আইনগতভাবে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

                           সালিশি আইনের ওই মামলায় প্রতিপক্ষ করা হয়েছে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চসিক এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রধান প্রকৌশলীকে।

                       চসিক এর পক্ষে ২০১৮ সালে করা চুক্তিতে তখনকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দোহা চুক্তিতে সাক্ষর করেন এবং সাক্ষী ছিলেন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম।

মামলায় উল্লেখ করা হয়- ২০১৯ সালের ৮ই  ডিসেম্বর ‘বিপ্লব উদ্যানের চূড়ান্ত নির্মাণ নকশা এবং ত্রিমাত্রিক চিত্র’ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেসময়ের মেয়রের বরাবরে আবেদন করা হয়। ১২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত নির্মাণ নকশা অনুমোদন করে স্বাক্ষর করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
২৫টি স্টলকে দ্বিতল ভবনে বিন্যস্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর ‘চুক্তির শর্ত অনুসারে’ দ্বিতল ভবন ও পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনসহ সার্বিক কাজে সাত কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫১২ টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
এসব দোকান ভাড়া দেওয়া হয়। সেগুলোর ট্রেড লাইসেন্সও চসিক অনুমোদন দিয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়- চুক্তি মোতাবেক উন্নয়ন কাজ চলছে। লিখিত ও অনুমোদিত চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ করেনি বলেও মামলায় দাবি করা হয়।

এরপর ঠিকাদার ৩১ শে আগস্ট চসিক এর  সাথে বৈঠক করে এবং ৬ সেপ্টেম্বর তার ব্যাখ্যাও দেন।

সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদে ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর বিপ্লব উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রি ফর্ম লিমিটেড ও স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। বিপ্লব উদ্যান ও এর চারপাশের ফুটপাতসহ আনুমানিক এক একর জমি এই প্রতিষ্ঠান দুটিকে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০ বছর মেয়াদী ওই চুক্তিতে।

চুক্তি অনুযায়ী, যেহেতু রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাহ করবে তাই সিটি কর্পোরেশন কে বছরে মাত্র এক লাখ টাকা কর বাবদ দেওয়া হবে। এছাড়া ডিজিটাল স্ক্রিনগুলোর জন্য সরকার নির্ধারিত হারে কর দিবে।
প্রতিষ্ঠান দুটি উদ্যানটি সংস্কার করে এক পাশে দোতলা বিপণি বিতান নির্মাণ করে। পরে বিপণি বিতানের দোকানগুলো মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে বলে জানা যায়।

চসিক সুত্রে জানা যায়, দ্বিতল কোনো অবকাঠামো করার বিষয় চুক্তিতে ছিল না।

চুক্তি অনুসারে, উদ্যানের পূর্ব পাশে প্রত্যেকটি ১৫০ বর্গফুটের মোট ২৫টি দোকান নির্মাণ করা যাবে। তবে প্রতিটি দোকান করা হয় ২০০ বর্গফুটের। দোকান তৈরি করা হয়েছে ৪০টি।এছাড়া জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা সংকুচিত করে দোকানের সামনে বসার জন্য স্থায়ী আসন বানানো হয়েছে।

1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *