ব্যক্তির চেয়েও দল বড়, দলের চেয়েও বড় আত্মীয়!!

Chattala24
  • 114
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    114
    Shares

দীর্ঘদিন ধরে দল ক্ষমতায় থাকার পরও  তৃণমূলের ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিত অনেক নেতাই আজ অবদি অবহেলিত। দলের দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ফ্রন্ট লাইনের অতন্দ্র প্রহরীরা দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেও দলের কোনো পদ কিংবা একবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগও মিলছে না। খোজ নিয়ে দেখলে সারাদেশের বেশকিছু সংসদীয় আসনের এলাকাজুড়ে এমন চিত্র পাওয়া যাবে।
পক্ষান্তরে, বিএনপি, জামায়াত, হাইব্রিড এবং রাজাকারদের সন্তানরাও আওয়ামী লীগের টিকিটে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন সংসদীয় আসনের  এমপিদের আশীর্বাদ পুষ্ট হওয়ার কারণে।

                          ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে স্বামী এমপি, স্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাই পৌর মেয়র, আত্মীয়-স্বজনরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন উদাহরণ দেশের অনেক জায়গায়।

                           স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে যেন সবকিছুতেই বিরোধ বেধেই আছে এমপি পরিবারের। সুযোগ পেলেই মারামারি বাধে এলাকার আওয়ামী লীগের মাঝে। দলের অনেক ত্যাগী নেতারাও এমপির রোষানলে পড়ে বিতাড়িত হয়েছেন। বিএনপি  জামায়াতের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনেরও অভিযোগ রয়েছে অনেক আসনের সাংসদের বিরুদ্ধে। সেসব জায়গাতে এমপি পরিবারের বাইরে দলের মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগ নেতারা।
এমপিরা নিজেদের পারিবারিক ও চামচা সিন্ডেকেট দিন দিন বড় করেই চলেছেন। আত্মীয় না থাকলে নিজের খাস লোকদের জনপ্রতিনিধি বানাচ্ছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানরাও ইউনিয়ন গুলোতে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও খাস লোকদের জনপ্রতিনিধি বানিয়ে বলয় তৈরী করে রেখেছেন। এতে করে দিন দিন নেতাদের অপকর্ম যেমন বেড়েই চলেছে ঠিক একই সাথে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেও জনপ্রতিনিধি হবার সুযোগও পাচ্ছেন না বহু পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারা।
তাই আসন্ন চারটি জেলা পরিষদ, ৯টি উপজেলা এবং ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে এমপিদের বলয় ভাঙতে চান আওয়ামী লীগ। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করাই দলের মূল্য লক্ষ্য।

                 দলীয় সুত্রে জানা যায়, এমপিদের যেসব আত্মীয় জনপ্রতিনিধি হয়ে অপকর্ম করেছেন, দলে বিশৃঙ্খলা তৈরী করেছেন, তাদের এবার মনোনয়ন দিবেন না আওয়ামী লীগ। তৃণমূলের পাঠানো প্যানেলের বাইরে এবার দলীয় মনোনয়নও বিক্রি করা হয়নি। অনেক এমপি ডিও লেটার দিয়েছেন কিন্তু তা আমলে নেয়নি আওয়ামী লীগ। এছাড়া বিগত সময়ে এমপি এবং জেলা নেতাদের সুপারিশে যেসব সুবিধাভোগী, সুযোগসন্ধানী, দুর্নীতিবাজ, রাজাকারের ছেলে-নাতি-স্বজন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীসহ বিতর্কিতরা দলের মনোনয়ন পেয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাদের কাউকেই এবার দলের মনোনয়ন দেয়া হবে না।
এদিকে কিছু এলাকার এমপিরা জেলা ও উপজেলা নেতাদের ম্যানেজ করে নিজেদের আত্মীয় ও নিজেদের বলয়ের নেতাদের নাম ছাড়া অন্য কারো নাম কেন্দ্রে মনোনয়নের জন্য না পাঠিয়েও প্রার্থী চূড়ান্ত করার অভিযোগও রয়েছে। সেসব বিষয়েও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এছাড়া যে সকল এলাকায় নিয়মিত সংঘর্ষ হচ্ছে সেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় নিরপেক্ষ নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের নেতারা। সম্প্রতি কয়েক দফা মারামারি হয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজলা আওয়ামী লীগের মধ্যে। সামনে এ উপজেলার নির্বাচন। এখানের আওয়ামী লীগের নেতারা এমপি পরিবারের বাহিরে নৌকার প্রার্থী চান। কুমিল্লা-১ আসনের এমপি মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে মেজর (অবঃ) মোহাম্মদ আলী সুমন এ উপজেলার চেয়ারম্যান। এমপির ভাতিজা যুবদল নেতা বুলু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা নৌকার প্রার্থীকে ফেল করিয়ে ভাতিজা বুলুকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বানান এমপি।

                    শুধু এখানেই নয়, দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে একই চিত্র বিরাজ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। এমপিদের বলয় ভেঙে সুশাসন ও উন্নয়নের জন্য দলের ত্যাগীদের পুনর্বাসন করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে পাঁচটি সংসদীয় উপ-নির্বাচনের মধ্যে চারটিতে ঢাকা-৫ ও ১৮, নওগা-৬, পাবনা-৪ এ এমপি’র পরিবারের বাইরে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ।’ কিন্তু তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মূল্যায়ন পাচ্ছেন না দুর্দিনের পরিক্ষিত ত্যাগী নেতারা। অন্যদিকে দলে সুবিধাবাদীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

                      আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্লেণ (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদের দলের তৃণমূলের জনপ্রিয়, সংগঠনের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রয়েছ বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদের দলের তৃণমূলের জনপ্রিয়, সংগঠনের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম- এমন নেতাদেরই দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ সব সময় ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন  গুলোতেও ত্যাগীদেরই মূল্যায়ন করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা বিতর্ক রয়েছে তাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, অনেক জায়গায় নিজেদের আলাদা বলয় তৈরী করতে চান স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলার বা কেন্দ্রীয় নেতারা। নিজেদের গ্রুপকে শক্তিশালী করতে গিয়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যান। এই বিষয়গুলোকে আমরা এবার গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো। তাছাড়া বিএনপির নির্বাচনে আসলে জয় পেতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। তৃণমূল নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। আমরা যেকোনও মূল্যে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাখতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *