মাল্টিটেলেন্ট জুয়াড়ির ফাঁদে সাবেক সচিব

Chattala24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভারতীয় নাগরিক সেজে এক অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন মাসুদ নামের এক ব্যক্তি। ভারতীয় পরিচয় পাকাপোক্ত করতে কথা বলেন হিন্দি ও ইংলিশে। আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি চক্র। এই চক্রটি তাস খেলার নামে করে অভিনব প্রতারণা।

সম্প্রতি এই চক্রের ছয়জন সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। বাকিদেরও গ্রেফতারে তৎপর পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মাসুদ খান, আসাদুজ্জামান, নাজির শেখ, নাসিম শেখ, এমদাদ উল্লাহ এবং নুরুল আমিন রতন। গ্রেফতার অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে একটি বাড়ির টু-লেট দেখে মাহমুদুল কবির তালুকদার নামে এক ব্যক্তি পুরো বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব দেন। বাড়ির মালিক একজন সাবেক সচিব। মাসিক ভাড়া ঠিক হয় ৪০ লাখ টাকা। গত ২৫ আগস্ট ভাড়ার চুক্তি করতে ওই সচিবকে নিকুঞ্জ-২ এ একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়

বলা হয়, নানারকমের ব্যবসা তাদের, সচিবকে দেখানো হয় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, বিদেশি ব্র্যান্ডের দামি ঘড়িসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র। এসবের আনুমানিক মূল্য ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। সচিবকে তাদের সঙ্গে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। কয়েক দিনে লাভ হবে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা। অল্প সময়ে এত টাকা লাভের প্রস্তাবে পটে যান। পরের দিন পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে আবারও যান ওই বাসায়। এবার আসে তিন তাস খেলার প্রস্তাব। খেলতে বসলে প্রথমে ডামি খেলায় জিতিয়ে দেওয়া হয় সাবেক সচিবকে। পরের দিন আবারও জুয়ার আসর বসানো হয়। এবার সত্যি সত্যি জুয়া। সচিব জিতে গেছেন ১০ কোটি টাকা। তবে শর্ত, এই ১০ কোটি টাকা পেতে হলে দেখাতে হবে আরও নগদ ১০ কোটি টাকা। জুয়ায় জেতা ১০ কোটি টাকা পেতে স্ত্রীর পৈতৃকসূত্রে পাওয়া হাতিরঝিলের সাড়ে চার কোটি টাকার জমি মাত্র ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। পরের দিন টাকা নিয়ে যান সেই বাসায়। টাকা পাশের রুমে রাখবে বলে যান। তাকে বসিয়ে রেখে একে একে পালিয়ে যান সবাই। কিছুক্ষণ পর তারা সচিবকে ফোনে জানিয়ে দেয়- এত টাকা লেনদেনের খবর জেনে গেছে গোয়েন্দা সংস্থা। বলে- ‘আপনি বাসায় চলে যান। ’ এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর মামলা হয় খিলক্ষেত থানায়। তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। সন্ধান মেলে রয়েল চিট ডিভিশনের। যারা দীর্ঘদিন ধরেই এমন নানা অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আসছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে খোঁজ মেলে চক্রের হোতা মাসুদ স্ত্রীসহ ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে ব্যাংকে প্রবেশ করছেন। সেই টাকা কাউন্টারে জমা দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকের লোকের মাধ্যমে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর চক্রের হোতাসহ ছয়জনকে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রটি একেকটি বাড়িতে বড়জোর দুই মাস ভাড়া থাকে। ছয় মাসে তারা তিনটি বাসা বদল করেছে। আর বাড়ির মালিকরাও বাড়তি টাকার লোভে কোনো যাচাই না করেই বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

সাবেক সচিব বলেন, যখন আমি গেলাম তখন তারা খেলা দেখাতে আগ্রহ দেখালো। ১০ কোটি টাকা আমি জিতে গেছি। সে টাকা নিতে হলে আমার কাছে যে ১০ কোটি টাকা আছে সেটা শো করতে হবে। তখন আমি জরুরি ভিত্তিতে জমি বিক্রি করে তাদের টাকা দেই। তারা টাকাগুলো নিয়ে গাড়িতে করে চলে যায়।

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অফিস ভাড়া নেয় চক্রটি। নান্দনিক পরিবেশ, দামি আসবাবপত্র, মূল্যবান সামগ্রী দেখে অল্প সময়ে অনেকেই তাদের বিশ্বাস করেন। ধরা পড়ার আশঙ্কায় এক/দুই মাস পর পর করেন ঠিকানা পরিবর্তন।

চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদেরও আটকের তৎপরতা চালাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, যারা নানাভাবে অনেক টাকার মালিক হয়ছেন এ রকম বয়োজ্যেষ্ঠ মুরব্বিদের তারা টার্গেট করেন। ক্যাসিনো না হলেও মদ পান বা বারে যাওয়ার সম্পর্ক আছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে পেয়েছি। প্রতারকরা ধরা পড়ছেন বটে। তবে একই ব্যক্তির কয়েকটি মোবাইল সিম ব্যবহার ও বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে রয়ে গেছে প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *