৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রূপসা গ্রুপের ৫ জনকে দুদকে তলব

Chattala24
  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares

নগরীর ইপিজেড এলাকায় গড়ে উঠা রূপসা কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি লিমিটেড গ্রাহকদের আমানতের উপর দ্বিগুণ লাভ, প্রথম জমা টাকার অর্ধেক কমিশন ও বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সিইপিজেড এবং কর্ণফুলীর পোশাক শ্রমিকদের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত মার্কেটিং চক্রের পাতানো ফাঁদে ফেলে গ্রাহক বাঁড়ায়। কৌশল হিসাবে মার্কেটিং চক্রটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বরিশাল ও বাগেরহাটের লোক পরিচয় দিয়ে এসব এলাকার গ্রাহক নিজেদের বাগে আনে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিজন গ্রাহক জামানত রেখেছে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা। দ্বিগুণ লাভের লোভ দেখিয়ে ৩ লাখ সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এমনই অভিযোগে রূপসা কিং গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বৃস্পতিবার ০১ অক্টোবর দুপুরে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর দফতরে তাদের তলব করা হয় বলে দুদক সুত্রে জানা গেছে।

তারা হলেন রূপসা কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. মজিবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মুছা হাওলাদার, প্রকল্প পরিচালক রাশেল হাওলাদার, পরিচালক জাকির হোসেন ও আবুল কালাম।

জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর ধরে মাল্টিপারপাস ব্যবসার আড়ালে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে ব্যবসার পরিবর্তে নিজেরাই লুটে পুটে নিয়েছে গ্রাহকের আমানতের টাকা। ভাগ বাটোয়ারায় টাকা গেছে পরিচালকদের পকেটে। আর গ্রাহকেদের অধিকাংশই ইপিজেড এলাকার পোশাক শ্রমিক। ওই সমিতিতে আছে প্রায় ১৪ জন পরিচালক। কমপক্ষে ৩ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে এরা ।

এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, রূপসা কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি লিমিটেড মাল্টিপারপাসের আড়ালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্প্রতি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। এর প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে রূপসা মাল্টিপারপাসের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে অবগত করে চিঠি দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাদের তলব করা হয়েছে। এছাড়া দুদক থেকে তাদের সম্পদের তথ্য ও তালিকা চাওয়া হয়েছে। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে। সব কিছু যাচাই-বাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

                      উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ১৪ জন পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত হয় রূপসা কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি লিমিটেড। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি প্রয়াত ওবাইদুল্লাহ রুবেল নামের এক পরিচালকের পরিবারের পক্ষে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ‘রূপসা কিং গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। ওইদিন ১৪ ঘন্টার অভিযানে সেখান থেকে নগদ ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান মুছা হাওলাদার, পরিচালক গোলাম ফয়সাল এবং প্রকল্প পরিচালক রাসেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *