ভিপি নূরসহ অপরাধীদের গুমর ফাঁস

  |  বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ |  ১২:১৭ অপরাহ্ণ

নিজেদের ‘নিষ্পাপ’ দাবি করে উল্টো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও এবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের শীর্ষ নেতাদের গুমর ফাঁস করে দিলেন সহযোদ্ধারাই। তারা নিজ সংগঠনের নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরসহ ছয় শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরে বিচারেরর দাবি তুলেছেন। অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর সহপাঠীরা। এদিকে মামলার প্রধান আসামি ও সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন।

গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর এক ছাত্রী সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি করে নুরুল হক নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। হাসান আল মামুন ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন দুই যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ এবং সাইফুল ইসলাম, ঢাবি শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও কর্মী ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

এরপর সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই ছয়জনকেই আসামি করা হয়। দ্বিতীয় মামলায় পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং হেয়প্রতিপন্ন করতে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছয়জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের হয়েছে। মামলায় চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে আটটার দিকে কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট হোটেল এ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ করা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

এদিকে এই ঘটনা ছাত্র রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব তৈরির পেছনে বড় বাধা হিসেবে মনে করছেন অনেক ছাত্র নেতা। ছাত্রলীগ ও ডাকসুর সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, বর্তমানে মেয়েরা এমনই রাজনীতি বিমুখ। সে ক্ষেত্রে যে সংগঠনই হোক, ভিপি নূর’র কাছে অভিযোগ আসার পর তার উচিত ছিল, বিষয়টা সমাধান করে মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো এবং হাসান আল মামুনের ব্যাপারে সাংগঠিনক ব্যবস্থা করা। তিনি সেটি না করে ওই মেয়েকে হুমকি দিয়েছে, যেটি ভিপি হিসেবে উচিত হয়নি। সাংগঠনিক এখন পর্যন্ত কোন বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি যেখানে বিষয়টা তারা অস্বীকার করেছে। তাদের সংগঠনের একটা অংশ কিন্তু এই ঘটনা সত্য বলেই জানাচ্ছে।