করোনার টিকা দিতে টাকা আদায়!

  |  শুক্রবার, এপ্রিল ২৩, ২০২১ |  ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

বিনামূল্যের কোভিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নগরের একটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে।

টিকার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার অজুহাতে গ্রহীতাদের কাছ থেকে বুধবার (২১ এপ্রিল) নগরের মোহরা এলাকার সাফা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল কেন্দ্রে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

পশ্চিম বাকলিয়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোমা ধর বলেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কোভিড-১৯ টিকার ১ম ডোজ নেওয়ার সময় অনেক ভিড় থাকলেও কোনও টাকা দিতে হয়নি। কিন্তু ২য় ডোজ নিতে গিয়ে বুধবার ৫০ টাকা দিতে হয়েছে।

হাসপাতালের নিচ তলায় ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী গণহারে ৫০, ১০০ টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেন আরেক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, যাদের কাছে দাবিকৃত টাকা ছিল না তাদের কাছ থেকে ২০ টাকাও নেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে না চাইলে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে অনেক টিকা গ্রহীতার সঙ্গে।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রকাশ্যে ওই তিন স্বাস্থ্যকর্মী টিকার জন্য টাকা আদায় করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। প্রায়ই ওই কেন্দ্রে টিকা গ্রহীতার ভিড় থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা টাকা আদায়ের ফাঁদ পেতেছে।

স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, করোনাভাইরাসের টিকা ছোট ঘরের মধ্যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। নিবন্ধনের পর যে কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার জন্য যেতে হচ্ছে, সেখানে আইএলআর (হিমায়িত বাক্সের মধ্যে টিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা) এর দেখা মিলছে না। হিমায়িত বাক্সে টিকা পরিবহন করতে হয়, সংরক্ষণ করতে হয় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। যারা টিকা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত, তারা টেবিলের ওপর সব ভায়াল রেখে একের পর এক টিকা দিয়েই যাচ্ছেন।

সাফা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুজিবুর বলেন, এই কেন্দ্রে ৪ জন মহিলা ও ১ জন পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী টিকাদানে নিয়োজিত আছে। আমার অবস্থানকালীন সময়ে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। আমি চলে আসার পর যদি এরকম অনিয়ম হয়, তবে সেটা দুঃখজনক। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে টাকা গ্রহীতাকে চিহ্নিত করা সহজ হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অধীন সাফা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতালে করোনার টিকার জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের দেওয়া কোভিড-১৯ টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি এরকম অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।