খাদ্য সংকট মেটাতে পার্সেল ট্রেন, ৭ দিনে ৮০ হাজার কেজি পণ্য পরিবহন

  |  রবিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২১ |  ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউনের মধ্যে সারাদেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে খাদ্য সংকট মেটাতে বিশেষ পার্সেল ট্রেন চলছে।

চলতি মাসে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ‘পার্সেল-১ ও ২’ নামে একটি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রতিদিন খাদ্যপণ্য নিয়ে ট্রেনটি বিকেল তিনটায় জামালপুরের সরিষাবাড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে আখাউড়া পৌঁছে। আখাউড়া থেকে ৮টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি রওনা দেয় সরিষাবাড়ি। ভোর সাড়ে ৪টায় ট্রেনটি সরিষাবাড়ি পৌঁছে।

ফিরতি যাত্রায় ‘পার্সেল-২’ হয়ে ট্রেনটি সরিষাবাড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ভোর ৫টায়। আখাউড়া পৌঁছে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে। আখাউড়া স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের দিকে ট্রেনটি রওনা দেয় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে এবং চট্টগ্রামে পৌঁছে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে।

গত ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পার্সেল ট্রেনে ৭ দিনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আয় হয় ২ লাখ ৫২ হাজার ১৯০ টাকা। প্রথমদিকে আয় কম হলেও এখন আয় বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য, মাছ, শুঁটকি, রাবারের জুতো ও ফার্নিচার নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগ সূত্র জানায়, ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে জামালপুরে ২৬৪ প্যাকেজ খাদ্যপণ্য যায়। ১১ হাজার ৯৩ কেজি পণ্য পরিবহন করে রেলওয়ের আয় হয় ২৩ হাজার ৫২৩ টাকা। ওইদিন পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ড, চিনকি আস্তানা, ফেনী, নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও কুমিল্লা থেকে কোনো পণ্য উঠেনি।

১৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে উঠে ১৬৮ প্যাকেজে ৭ হাজার ১০৩ কেজি পণ্য। আয় হয় ৩১ হাজার ৫২৪ টাকা। পাহাড়তলী স্টেশন থেকে ৪ প্যাকেজে ১৪৫ কেজি পণ্য উঠে, আয় হয় ৩২৪ টাকা। সীতাকুণ্ড, চিনকি আস্তানা স্টেশন থেকে কোনো পণ্য উঠেনি। ফেনী স্টেশন ও ফিরতি কুমিল্লা স্টেশন থেকে কিছু পণ্য উঠে। নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও কুমিল্লা থেকে কোনো পণ্য উঠেনি। সবমিলিয়ে ওইদিন আয় ৩৪ হাজার ৬৩০ টাকা।

১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম, পাহাড়তলী, ফেনী কুমিল্লা থেকে পণ্য উঠে। এদিন সবমিলিয়ে ১৭৯ প্যাকেজে ৭ হাজার ৭০২ কেজি পণ্য পরিবহন করে আয় হয় ২৯ হাজার ২৬৪ টাকা। ১৭ এপ্রিল ২৩৪ প্যাকেজে ১১ হাজার ৩৪২ কেজি পণ্য পরিবহন করে আয় হয় ২৪ হাজার ৫৫৭ টাকা।

১৮ এপ্রিল ৩৪৪ প্যাকেজে ১৪ হাজার ১০৩ কেজি পণ্য পরিবহন করে ৩৫ হাজার ৬৫৭ টাকা আয় হয়। ১৯ এপ্রিল ২৭২ প্যাকেজে ১০ হাজার ৩১১ কেজি পণ্য পরিবহন করা হয়। ওইদিন আয় হয় ৬৮ হাজার ২৪১ টাকা। ২০ এপ্রিল ৩৪৫ প্যাকেজে ১৫ হাজার ৮৮৫ কেজি পণ্য পরিবহন করে ৩৫ হাজার ৩১৮ টাকা আয় হয়। সবমিলিয়ে ১৬ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ দিনে প্রায় ৮০ হাজার কেজি পণ্য পরিবহন করেছে পার্সেল ট্রেনটি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিটিও) আনসার আলী বলেন, চলতি মাসের ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পার্সেল ট্রেনে ৭ দিনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল আয় করে ২ লাখ ৫২ হাজার ১৯০ টাকা। প্রথমদিকে আয় কম হলেও এখন আয় বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ থাকায় আমরা এ ট্রেন চালু রেখে খাদ্যের সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হচ্ছি।