বাঁশখালীতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় হাইকোর্টে রিটের শুনানি আজ

  |  সোমবার, এপ্রিল ২৬, ২০২১ |  ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি হবে আজ।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য্য করে আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।

এর আগে ২২ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগী তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। মানবাধিবার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ কোটি এবং আহতদের ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

গত ১৮ এপ্রিল ওই সংঘর্ষে ৫ জন নিহতের ঘটনায় প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ কোটি এবং আহতদের ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

একইসঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠানো হয়। মানবাধিবার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ নোটিশ প্রেরণ করেন।

নোটিশে বলা হয়েছিল, গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ শ্রমিক নিহত হন। একইসঙ্গে ২০ জন শ্রমিক আহত হন। বেতনভাতা নিয়ে অসন্তোষ থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত বেশ কয়েকজনকে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন—শুভ (২৩), মো. রাহাত (২৪), আহমদ রেজা (১৯), রনি হোসেন (২২) ও রায়হান (২০)। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আবদুল কাদের, ইয়াসির আহমেদ, আসাদুজ্জান নামে তিন পুলিশ কনস্টেবলও আহত হন।

তাই নোটিশ পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে নোটিশের জবাব না পেয়ে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।