কারাভোগের ১৭ মাস ফেরত চাইলেন হাছিনা বেগম

  |  বুধবার, মে ৫, ২০২১ |  ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

আসামি না হয়েও এক বছর চারমাস ২০ দিন বিনা অপরাধে সাজাভোগ করার পর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে কারাভোগের দিনগুলো ফেরত চাইলেন হাছিনা বেগম।

মঙ্গলবার (৩ মে) পৌনে ৫ টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে এ দাবি করেন তিনি।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কখনো বিশ্বাস করতে পারিনি ছাড়া পাব। ছয় বছর জেল খাটার পর বের হতে হবে মনে করেছি। সম্পূর্ণ বিনা দোষে জেল খাটতে হলো আমাকে। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিনা দোষে ১ বছর ৪ মাস ২০ দিন কারাগারে ছিলাম। আমার জীবন থেকে যে ১৭ মাস ঝরে গেল তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

হাছিনা বেগম আরও বলেন, আমাকে টেকনাফ থানা পুলিশ যখন নিয়ে যাচ্ছে, আমি বার বার বলেছি আমি হাসিনা আক্তার নই। আমি নাকি মিথ্যা কথা বলেছি। যখন কক্সবাজার আদালতে নিয়ে এসেছে তখনো বলেছি এটা আমার মামলা নয়।

আমি জীবনেও কর্ণফুলী থানা দেখিনি। তখন এটি ২০১৭ সালের মামলা বলে জানায় পুলিশ। গত ১৭ মাস জেলে খেটে আমার জীবনের অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পথে এসে বসেছে। আমার বাড়ি ঘর সবকিছু বিক্রি হয়ে গেছে। আমার ছেলে-মেয়েদের কি হবে? সরকার কখনো আমার এই দিনগুলো ফিরিয়ে দিতে পারবে না। এই আইনজীবী আমাকে যদি বের না করতো, তাহলে আমার ছয় বছরই জেলে থাকতে হত। আমার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কিছুই করতে পারতো না।

হাছিনা বেগমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, হাছিনা বেগমের বিষয়টি মানবিক। তারা অনেক আইনজীবী ধরেছেন। আইনজীবীদের ফ্রি দিতে গিয়ে বাড়িটা পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়েছে। আমি জানার পরে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পিটিশন দিয়েছি আদালতে। আদালতকে জানানোর পরে টেকনাফ থানার পুলিশকে প্রকৃত আসামির বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পুলিশ প্রায় ৬-৭ মাস ধরে সময়ক্ষেপণ করে। পরে আদালতে একটি আবেদন করা হয় নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়ার জন্য। এরপর পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তিনি আরও জানান, পুলিশের গাফিলতির কারণে বিনা দোষে ১৭ মাস জেল খেটেছেন এই নারী। যাদের গাফিলতির কারণে বিনা দোষে জেল খাটতে হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আবেদন করা হবে। এছাড়া হাছিনা বেগমের জন্য ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হবে। যাতে এই রকম বিনা অপরাধে আর কাউকে যেন জেল খাটতে না হয়।

এদিকে বিকাল পৌনে ৫ টার দিকে সব আইনি প্রক্রিয়া ও দাফতরিক কাজ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পান হাছিনা বেগম। কারাগার থেকে হাছিনা বেগম বের হওয়ায় সময় উপস্থিত ছিলেন হাছিনার ছেলে শামীম নেওয়াজ ও তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। এ সময় ছেলের হাত ধরে কারাগার থেকে বের হন হাছিনা বেগম।

মাদক মামলায় ৬ বছর সাজার আদেশ হয়েছিল হাসিনা আক্তারের। কিন্তু তার জায়গায় ১ বছর ৪ মাস ২০ দিন ধরে সেই সাজা ভোগ করেন হাছিনা বেগম। বিষয়টি সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পঞ্চম আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। সাজাপ্রাপ্ত আসামির নামের প্রথম অংশ ও স্বামীর নামের সঙ্গে মিল ছিল। তবে অপরাধীর নামের সঙ্গে মিল থাকলেও বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে রয়েছে অমিল।