টিকার স্বীকৃতি নিয়ে জটিলতা বাড়ছে

  |  শনিবার, মে ২৯, ২০২১ |  ১২:১১ অপরাহ্ণ

চীনের তৈরি কভিড-১৯ টিকা না নিলে বিদেশিরা চীনে ঢুকতে পারছেন না। বাংলাদেশ গত মঙ্গলবার চীনের টিকা সিনোফার্ম প্রয়োগ শুরু করেছে। চীনে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চীনা টিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। চীনের সিনোফার্ম টিকাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দিলেও এখনো স্বীকৃতি দেয়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের ২৭টি দেশ যে রূপরেখা তৈরি করেছে তাতে তাদের অনুমোদিত টিকা নেওয়া ছাড়া বিদেশিদের এসব দেশে ঢোকার সুযোগ থাকছে না। জটিলতা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী সেপ্টেম্বর মাসের দিকে সশরীরে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে। সেখানে টিকা নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই টিকাও হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ) অনুমোদিত টিকা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এ পর্যন্ত তিনটি কভিড টিকার জরুরি প্রয়োগ অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো হলো ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও জেনসেন।

আশাব্যঞ্জক ফল দেখানোর পরও প্রতিবেশী ভারতের টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’ এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পায়নি। তবে ভারতে ওই টিকার প্রয়োগ চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে কোভ্যাক্সিনের ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কোভ্যাক্সিনের টিকার দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চীনের টিকা বাংলাদেশে আনার যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, চীনের টিকা না নিলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনে ঢুকতে পারছেন না। গত সপ্তাহে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের শিক্ষাজীবন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেড় বছর আগে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু এখন আর ফিরতে পারছেন না। চীনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চীনে ফিরতে হলে তাঁদের চীনের টিকা নিতে হবে। এখন তাঁদের দাবি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সেমিস্টারের মধ্যে চীনে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা, দ্রুততম সময়ে চীন গমনেচ্ছু সব শিক্ষার্থীকে চীনের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং দীর্ঘ সাত মাস ধরে বন্ধ থাকা চীনে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যাবসায়িক, চাকরি ও পারিবারিক ভিসা ফের চালুর ব্যবস্থা করা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) অনুমোদন দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশ আরো বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়। অনেক ক্ষেত্রে আবার ডাব্লিউএইচওর অনুমোদনের আগে এক বা একাধিক দেশে টিকা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন চীনের টিকা ডাব্লিউএইচওর অনুমোদনের আগে চীনসহ অনেক দেশে প্রয়োগ করা হয়েছে। রাশিয়ার টিকাও ডাব্লিউএইচওর অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই প্রয়োগ করা হচ্ছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ডাব্লিউএইচও অনুমোদন দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এখনো তা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো জানায়, দেশে দেশে টিকার অনুমোদন বিষয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজন বিবেচনা করে। যে টিকা প্রয়োজন বা যেটি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে সেটিই স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এক টিকা অন্য দেশে স্বীকৃত বা অনুমোদিত না হলে যে ধরনের সমস্যা হচ্ছে সেগুলো সমাধানে আগামী দিনগুলোতে আলোচনা হতে পারে। কভিড মোকাবেলায় টিকাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কভিড মহামারির নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করা হলে বিদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে অব্যাহতির মতো সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে কভিড পরীক্ষা থেকে দ্রুত মুক্তি মিলছে না। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, যে টিকাই নেওয়া হোক না কেন বা অ্যান্টিবডি স্ট্যাটাস যেমনই হোক না কেন, যাত্রা শুরুর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কভিড পরীক্ষা করে ‘নেগেটিভ’ সনদ নিতে হবে। প্রায় সব দেশই এমন নীতি অনুসরণ করছে।