ম্যানসিটিকে হারিয়ে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন চেলসি

  |  রবিবার, মে ৩০, ২০২১ |  ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো শিরোপা জিতল চেলসি। ফাইনালে দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন জার্মান মিডফিল্ডার কাই হাভার্টজ। ম্যাচ শুরুর আগে বাজির দর কিংবা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, সব কিছুতেই এগিয়ে ছিল ম্যান সিটি।

পোর্তোর স্তাদিও দো দ্রাগোয় শনিবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারায় চেলসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটা তাদের দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

কিন্তু পোর্তোতে রূপকথার জন্ম দিতে পারেনি ম্যান সিটি। থমাস টুখেলের বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলের কাছে হার মেনেছে পেপ গার্দিওলা। ম্যাচের শুরু থেকেই দু’দল উপহার দেয় আক্রমণাত্মক ফুটবল। এদিনও কোনো স্বীকৃত স্ট্রাইকার ছাড়া একাদশ সাজান পেপ। তারপরও তার মিডফিল্ড নির্ভর দলকে ভালো টক্কর দিয়ে যায় চেলসি। দু’দলের সামনেই আসে বেশ কিছু সুযোগ। তবে গোলের পরিষ্কার সুযোগ বেশি এসেছিলো ম্যান সিটির। কিন্তু চেলসির রক্ষণ পোক্ত রাখেন ডিফেন্ডাররা। গ্রোয়েন ইনজুরিতে ৩৯ মিনিটে মাঠে ছাড়েন চেলসি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা। তবে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলারকে হারিয়েও উদ্যম হারায়নি ব্লু শিবির।

৪২ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে মেসন মাউন্টের থ্রু বল বোকা বানায় ম্যান সিটি ডিফেন্সকে। ওয়ান টু ওয়ানে কাই হাভার্টজ গোল করতে ভুল করেননি। চেলসির হয়ে এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই প্রথম গোল ২১ বছর বয়সী এই জার্মানের। লিড নিয়ে বিরতিতে যায় চেলসি।

দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলে পরিবর্তন আনেন গার্দিওলা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন কেভিন ডি ব্রুইনা। তার জায়গায় মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। এরপর আরো দুই পরিবর্তন আনেন ম্যান সিটি কোচ। দুই অভিজ্ঞ ফার্নানদিনহো আর সার্জিও আগুয়েরোকে মাঠে নামালে, বাড়তে থাকে সিটির আক্রমণের ধার।

বলের দখলেও এগিয়ে থাকে সিটি। কিন্তু কোনোভাবেই চেলসির রক্ষণ দূর্গ ভাঙতে পারেনি ফিল ফোডেন-রিয়াদ মাহরেজরা। যে সুযোগগুলো সিটি পেয়েছিলো সেগুলোর দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন আজপিলিকুয়েতা-রুডিগাররা। চেলসির আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেন ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৭ মিনিট যুক্ত করা হয়।

১৯৯৯ সালে সিটির নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের যোগ করা সময়ে দুই গোল করে শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু এদিন শেষ অঙ্কে হয়নি তেমন কোনো নাটকীয়তা। সিটি ভক্তদের হৃদয় টুকরো টুকরো করে ৯ বছর পর আবারো ইউরোপ সেরার খেতাব ফিরে পায় চেলসি।