বিএসআরএম’কে ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের হুশিয়ারি; বন্ধ থাকবে কারখানা!

  |  রবিবার, মে ৩০, ২০২১ |  ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

দেশের শীর্ষস্থানীয় রড নির্মাণকারী শিল্প গ্রুপ বিএসআরএম মিরসরাইয়ের ইস্পাত কারখানার কর্মকান্ডে ফুসে উঠছে সর্বস্তরের মানুষ। এতদিন সাধারণ মানুষের তরফ থেকে স্বল্প পরিসরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হলেও এবার খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে মাঠে নেমেছন।

রবিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোম্পানীটির সোনাপাহাড় ইস্পাত কারখনার গেটে হাজারখানেক মানুষের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বেশকটি দাবি উত্থাপন করে আগামী দুই মাস কারখানার সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন এমপি। এসময় কারখানায় প্রবেশ মুখ থেকে কাঁচামাল ও স্ক্র্যাপ বহনকারী গাড়িকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ১০ থেকে ১২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে বিএসআরএম তাদের মালামাল উৎপাদন করছে। এতে পার্শ্ববর্তী ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এতে চারদিকে শুরু হয়েছে পানির হাহাকার। তারা কারো কথা শুনছে না। আজ (রবিবার) থেকে তাদের ইস্পাত কারখানায় কোন কাঁচামাল ঢুকবে না। আগামী দুই মাস ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকবে। ফেনী নদী থেকে পাইপলাইনে পানি আনতে পারলে ফ্যাক্টরী চলবে, না হয় বন্ধ থাকবে।’

মানববন্ধনে এমপি যেসব দাবি উত্থাপন করেন তা হলো, অপসারণ করতে হবে সবকটি গভীর নলকূপ। আগামী এক বছরের মধ্যে কৃষি ও জনবসতিপূর্ণ সোনাপাহাড় গ্রাম থেকে ইস্পাত কারখানা স্থানান্তর করে নিতে হবে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে। কৃষকদের বোরো আবাদের জন্যে দখল ছাড়তে হবে বারোমাসি সোনাপাহাড় ছড়া। ফিরিয়ে দিতে হবে একরের পর একর উজাড় করে দখল করা সরকারি বন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন,‘বিএসআরএম কর্তৃপক্ষ মিরসরাইয়ের মানুষকে ধোকা দিয়েছে। তারা ফ্যাক্টরী নির্মাণের নামে বনবিভাগের লোকজনকে ম্যানেজ করে একরের পর একর সবুজ বনায়ন ধ্বংস করে দখল করেছে। একটি বারোমাসি ছড়া দখল করে শত শত কৃষককে বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত করেছে। নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা এখন জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যবহার করছে।’

মানববন্ধনের উদ্যেক্তা স্থানীয় বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকন বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রশাসনকে নিয়ে আমরা বিএসআরএম এর সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য করবো। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে এসব গভীর নলকূপ সিলগালা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি।’

এদিকে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দেয়া দাবি দাওয়া সংক্রান্ত বিষয় বাস্তবায়নে রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জোরারগঞ্জ থানার পরিদর্শক নূর হোসেন মামুনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করেন বিএসআরএম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সেখানে তাঁরা মানববন্ধনে দেয়া এমপির দাবি তড়িৎ গতিতে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমপি মহোদয়ের দেয়া সবকটি বিষয়াদি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসআরএম কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এসেছি। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়নেরও তাগিদ দিয়েছি।’

সর্বস্তরের জনতার মানববন্ধনে দেয়া এমপির বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএসআরএম গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) তপন সেন গুপ্ত বলেন, ‘মানবন্ধনের বিষয়ে জেনেছি। বাকি বিষয় আমাদের লোকজন জানানোর আগে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।’

প্রসঙ্গত, দেশের ইস্পাত খাতের মার্কেট লিডার খ্যাত বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিল (বিএসআরএম)। তারা মিরসরাই উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকায় স্থাপন করেছে দেশের বৃহৎ বিলেট কাস্টিং প্ল্যান্ট। এটি করতে গিয়ে তারা অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন বেশ কটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে গত ১০ বছর পানি উত্তোলন করছে। যাতে এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া কোম্পানীটি স্থানীয় সিন্দুইর‌্যা টিলা থেকে উৎপত্তি হয়ে বারোমাসি সোনাপাহাড় ছড়ার প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা দখল করে কারখানার অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে। যার দরুন এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।