গ্রামে ইন্টারনেট নেই, পরীক্ষা দিতে পাহাড়ের চূড়ায় শিক্ষার্থীরা!

  |  বুধবার, জুন ৯, ২০২১ |  ১২:৩০ অপরাহ্ণ

ভারতের মিজোরামের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। ইন্টারনেটের গতি একেবারেই নেই গ্রামটিতে। কিন্তু পরীক্ষাতো দেওয়াই লাগবে। তার জন্য পাহাড় ভাঙা পরিশ্রম করতেও প্রস্তুত সেখানকার শিক্ষার্থীরা। বাস্তবে সেটা করেও দেখিয়েছে মিজোরামের একদল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। একটু ভালো ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য তারা পাহাড়ের চূড়ায় উঠছে। এবং সেখান থেকেই সেমিস্টার পরীক্ষা দিচ্ছে তারা।

ভারতের আইজলথেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে সাইহা জেলায় অবস্থিত প্রত্যন্ত এ গ্রামটির নাম মাহেরি। সেই গ্রামে ইন্টারনেট পরিষেবা এতটাই খারাপ যে, মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত পরীক্ষার্থীকে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ছুটতে হচ্ছে তেলাও ত্লা নামের একটি পাহাড়ের চূড়ায়।

কিন্তু কীভাবে তারা পাহাড়ে উঠে পরীক্ষা দেয়? জানা যায়, বাঁশ এবং কলাপাতায় তৈরি একটা ছোট্ট ঘর আছে পাহাড়ে। পরিবর্তিত আবহওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেখানেই বসে পরীক্ষা দেন। পরীক্ষা না দিয়ে উপায়ও নেই তাদের। নাহলে যে সার্টিফিকেট মিলবে না। তাই এভাবে নিজেদের জীবন বাজি রেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন তারা।

ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কেএল ভাবেইহ্রুয়াসা এ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানায়, পাহাড়ে ঘেরা একটি গ্রাম মাহেরি। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগও একেবারেই দুর্বল। গোটা ভারতে যখন ৫জি পরিষেবার প্রস্তুতি চলছে, তখন মিজোরামের এই গ্রামের ভরসা ২জি পরিষেবা। গোটা রাজ্যের ২৪ হাজার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য জুনে অনলাইনে সেমিস্টার পরীক্ষার আয়োজন করে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

ঠিক এমন একটা সময় এই ঘটনা সামনে এল যখন গোটা ভারতে ৫জি পরিষেবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই গ্রামের ১৭০০ মানুষ আজও ২জি পরিষেবার ভরসাতেই জীবন কাটাচ্ছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে ছাত্রদের কল্যাণে একাধিক সংগঠন এগিয়ে আসে।

এন বেইরাসাচাই নামের এক সংগঠনের সদস্য জানান, ‘আজ আমরা দেখতে এসেছি কিভাবে এখানকার শিক্ষার্থীরা পাহাড়ের চূড়ায় পরীক্ষা দিচ্ছে। গ্রামে কোনো ৪জি পরিষেবা নেই। কিন্তু এখানে তাও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। আমরা সরকারের কাছে এই সমস্যা সমাধানের আবেদন জানাচ্ছি।’