নগরীর কোতোয়ালীতে ভদ্রবেশী চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক

  |  শনিবার, জুন ১৯, ২০২১ |  ১০:২২ অপরাহ্ণ

তাদের ৪ জনই সমাজের ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত । তাদের মধ্য কেউ ব্যবসায়ী,কেউ চাকুরীজীবি। কিন্তু এর আড়ালে তারা পেশাদার সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য । টার্গেট খালি বাসা। অল্প সময়ো মধ্যই লুটে নেয় ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র। চুরি করার পর চোরাই পণ্যের সমান ভাগ পান সবাই ।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নগরীতে এমন একটি চোর চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো,মো,ইমন (৩২),মো,আশ্রাব খান (৩৫),শাজাদা আক্তার প্রকাশ সাদিয়া (২০),আনিকা সুলতানা প্রকাশ সানি (১৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭ ভরি ১২ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ,নগদ ৭৮,৯১৫ টাকা ও নানা চোরাই মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো,নেজাম উদ্দিন বলেন,নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন হরিশদত্ত লেইন,আন্দরকিল্লা ,রাজাপুকুর লেইন ও হেমসেম লেইনের ৩ টি বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। তার মধ্য চলতি বছরের গত মার্চ মাসের ৫ তারিখ রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন হেমসেন লেইনের বড়ুয়া গলিস্থ বসুন্ধরা নামের একটি বিল্ডিং এর ২ তলার উত্তর পাশের ফ্লাটের গৃহকর্তা লেডিস ক্লাবে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ঘরৈ তালা মেরে বাইরে যান। রাত ১২ টার দিকে বাসায় ফিরে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরবর্তীতে নিচ থেকে দেখা যায় যে,বারান্দার গ্রীল কাটা। ঘরে প্রবেশ করে দেখেন আলমারীতে থাকা ১ ভরি স্বর্ণালংকার ১ টি টাইটান ঘড়ি ১০ টাকা মূল্যর ৩০০ টি প্রাইজবন্ড ও নগদ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা চুরি হয়ে যায়।

নেজাম উদ্দিন বলেন , পরের দিন অজ্ঞাতনামা চোরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেন।
আবার চলতি মাসের ১৬ জুন সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকানন ৩ নং গলির হরিশদত্ত লেইনস্থ ৫ তলায় আনোয়ারা বেগমের ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় খালি বাসার সুযোগ পেয়ে আলমারিতে থাকা ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরের দিন আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। একইদিনে সন্ধ্যা কোতোয়ালী থানাধীন আন্দরকিল্লা রাজাপুকুর লেইনের সাধনা ভবনের ৪র্থ তলায় রামকৃষ্ণ পালের ভাড়া বাসায় ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংবার ও নগদ ১০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি ও কোতোয়ালী থানায় ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
এমন তিনটি ঘটনায় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ও উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) বিজয় বসাক ও সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় উপ-পরিদর্শক মোমিনুল হকের নেতৃত্বে একটি টিম অনুসন্ধান করে প্রাথমিক ভাবে ঘটনার তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেন । মামলার প্রথম আসামী মো,ইমন (৩২) কে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে বাকী ৩ জন আসামীকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। আটকের পরে তাদের তথ্য মতে গোপনীয় নানা স্থান থেকে চোরাইকৃত মালামাল জব্দ করা হয়।