করোনাকালেও থেমে নেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম

  |  শুক্রবার, জুন ২৫, ২০২১ |  ৮:২৬ অপরাহ্ণ

করোনাকালেও নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। এখানকার সব কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় সহজেই মিলছে সেবা।

প্রায় প্রতিদিনই অনেক সেবাপ্রার্থী আবেদন করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের বাইরে পড়ালেখা ও চাকরি প্রত্যাশীরা নাম এবং বয়স সংশোধনের সনদ দ্রুত সময়ে পাওয়ার জন্য আসেন। হয়রানি ছাড়াই তারা এসব সেবা পাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার দম্পতি সুস্মিতা ও টুটুল বড়ুয়া। উচ্চশিক্ষার জন্য ইতালি যাবেন। তাদের এসএসসি’র পরিচ্ছন্ন সনদের প্রয়োজন। গত ২১ জুন ছিল এই সনদ জমাদানের শেষ তারিখ। বিষয়টি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানালে পরিচ্ছন্ন সনদটি ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরি করে দেওয়া হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) চাকরির সুযোগ পেয়েছেন দিলদার হোসেন। জরুরি ভিত্তিতে তার এসএসসি’র সনদ দরকার। সেই সনদ দিলদার মাত্র একদিনেই উত্তোলন করেছেন। আগে এই সনদ উত্তোলন করতে সময় লাগতো ১৮-২০ দিন।

নাম ও বয়স সংশোধনের জন্য আবেদন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার বিশ্বরূপ বড়ুয়া। তিনি আগে অনলাইনে আবেদন করেন। ওই আবেদন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করার পরের দিনই তার ডাক আসে। কোন ধরনের হয়রানি ছাড়াই তিনি ছেলের নাম ও বয়স সংশোধন করেছেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডকে আধুনিক ও অনলাইন সেবার আওতায় আনার ফলে এর সুফল পাচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপসচিব মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন আমরা বর্তমানে অনলাইনে নিষ্পত্তি করছি। যার কারণে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে অধিক সেবাপ্রার্থীর প্রয়োজন মেটাতে পারছি। করোনা পরিস্থিতিতেও আমাদের সব ধরনের সেবা চলমান রয়েছে।

পরীক্ষা সংক্রান্ত গোপনীয় কাজ

পরীক্ষা সংক্রান্ত সব ধরনের কাজ চলছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। ২০২১ সালের এইচএসসি’র প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধন, ২০২১ সালের বিজি প্রেসের কাজ, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ট্রাঙ্কজাত করে বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ, জেএসসি ২০২০ সালের সনদ বিতরণ কাজ, ২০২০ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সনদ বিতরণ কাজ চলছে।

প্রশাসনিক কাজ

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধনের অপেক্ষায়। শিক্ষা বোর্ডের প্রবেশপথে ‘হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সেবাপ্রার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা নিচ্ছেন। কনফারেন্স রুমকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যেখানে আগে ১০ জনের জায়গা হতো সেখানে অত্যাধুনিক সুবিধাসহ ৩০ জনের একসঙ্গে বসে সভা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় শাখার কাজ

করোনা মহামারির মধ্যেও ২০২১ সালের জেএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৩শ ৩৩টি বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। করোনার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সেখানে অ্যাডহক কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। এছাড়াও বিদ্যালয় স্থাপন, পাঠদান, স্বীকৃতি প্রদান ও নবায়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

কলেজ শাখার কাজ

করোনাকালে ২০২০-২১ সেশনে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থীর ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৯৬ হাজার শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বিভাগ এবং বিষয় পরিবর্তনের কাজ চলছে। কলেজগুলোতে অ্যাডহক কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, করোনার মধ্যেও আমরা সার্বিক কার্যক্রম চালাচ্ছি। আগে জরুরি ফি আদায় করার পরেও সেবা নিতে এক সপ্তাহ লাগতো। কিন্তু আমরা এখন চেয়ারম্যান মহোদয়ের অনুমতিক্রমে জরুরি ফি ছাড়া আগে সেবা দিচ্ছি। এখানে কারো পরিচয় নিয়ে আসতে হয় না। রিকশাওয়ালার ছেলে হলে সে আরও আগে সেবা পাবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এর চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্ত্তী বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও আমরা জরুরি সব সেবা চালু রেখেছি। একদিনের জন্যও সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম চালু রয়েছে। এপ্রিলে সব অফিস বন্ধ ছিল কিন্তু আমরা আমাদের কার্যক্রম চালু রাখতে পেরেছি।