রিফাত হত্যার দুই বছর পূর্ণ; নয় মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যকর হয়নি রায়

 বরগুনা প্রতিনিধি |  শনিবার, জুন ২৬, ২০২১ |  ১০:০১ অপরাহ্ণ

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের দুই বছর আজ। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ গেট এলাকায় নয়ন বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। মামলার এক বছরের মধ্যে রায় ঘোষনা করলেও, নয় মাস পরেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে প্রায় সময়ই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন রিফাতের মা। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। প্রতিদিন সকাল-বিকাল ছেলের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রায় কার্যকর হলে ছেলে হারানোর যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমতো।’

এদিকে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবী জানিয়ে রিফাতের বাবা জানান, ‘গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার পর আমরা আশা করেছিলাম দ্রুত তা কার্যকর হবে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তাতে বিলম্ব হচ্ছে। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, অতি দ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়। সারাদেশের মানুষ এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কবে কার্যকর হবে সেদিকে তাকিয়ে আছে। আমি আশা করি দ্রুতই তা কার্যকর করা হবে।’

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টায় স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সহায়তায় রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন বন্ড ও তার ‘০০৭ বন্ড’ বাহিনী। ১জুলাই পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বাহিনী প্রধান নয়ন বন্ড। হত্যা পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একের পর এক গ্রেপ্তার হয় অন্য আসামীরা।

মামলার সাক্ষী প্রমাণ শেষে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামীর মধ্যে স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন। ওই বছরই ২৭ অক্টোবর অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১১ আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় শিশু আদালত। সব আসামীরাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। তবে করোনার কারনে আদালত বন্ধ থাকায় থমকে আছে আদালতের কার্যক্রম।

নাগরিক অধিকার সংরক্ষন কমিটির আহ্ববায়ক মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘রিফাত হত্যার যে রায়টি হয়েছে তা যদি কার্যকর হতো, কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম কমে যেত। এখনো কিন্তু বরগুনায় কিশোর গ্যাং রয়েছে এবং তারা নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই কিন্তু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।’

প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনসহ মোট ২৪ জনকে আসামি করে পুলিশ। এতে সাক্ষ্য দিয়েছিলো ৭৬ জন । তার উপর ভিত্তি করেই নিম্ন আদালতে রায় হয়। তবে উচ্চ আদালতে এমন রায় বহাল থাকবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত নিহত রিফাতের পরিবার।

রিফাতের স্বজনরা বলছেন, রায় কার্যকর হলে শান্তি পাবেন তারা। আর সচেতন মহলের নাগরিকরা বলছেন, রায় কার্যকর হলে কমে যাবে কিশোর গাংয়ের প্রভাব।