জুনে করোনায় মৃত্যুর হার ৬২ শতাংশই উপজেলায়

 ডেস্ক নিউজ |  বুধবার, জুন ৩০, ২০২১ |  ৯:১৩ অপরাহ্ণ
corona-Chittagong

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে বাড়ছে মৃত্যু। প্রথমদিকে নগর এলাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হলেও জুন মাসে উপজেলায় বেড়েছে মৃত্যু।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এখনই সচেতন হতে হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চলতি জুন মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রামে গত একমাসে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ উপজেলায় ৫৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং মহানগর এলাকায় ৩২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশ। গত ১৫ দিনে উপজেলাগুলোতে ৩৫ জন এবং মহানগর এলাকায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলাগুলোতে এখনও স্বাস্থ্যসেবা অপর্যাপ্ত। রোগীর চাপ সামলাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার প্রমাণ, উপজেলাগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। শুধু চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই হবে না, কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। এছাড়া মানুষের মধ্যে সচেতনতাও তৈরি করতে হবে। হালকা সর্দি-জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না। কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট মো. হামিদুল্লাহ মেহেদি বলেন, দ্রুত বাড়ছে করোনায় মৃত্যুহার। যেহেতু উপজেলাগুলোতে এ হার বেশি, ওইসব এলাকায় এ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। গ্রামাঞ্চলের মানুষকে মাস্ক পড়তে বাধ্য করতে হবে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। মানুষ এখনও উপলব্ধি করতে পারছে না- আমরা আসলে কোন পর্যায়ে আছি। মৃত্যুর হার একটি সংখ্যা মাত্র, কিন্তু এর পিছনে পরিবারগুলোর কি পরিমাণ ক্ষতি এবং কষ্ট লুকিয়ে আছে তা বর্ণনা করা যাবে না। তাই নিজেদেরই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে হবে।