সমন্বয়হীনতা ও অসচেতনতা নাগরিক জীবনে অভিশাপ আনে: মেয়র রেজাউল

  |  Saturday, July 3rd, 2021 |  4:55 pm

সমন্বয়হীনতা ও অসচেতনতা নাগরিক জীবনে অভিশাপ নিয়ে আসে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

নগরের বহদ্দারহাটস্থ নিজ বাসভবনে শুক্রবার (২ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও নাগরিক সচেতনতা স্মার্ট সিটি গড়ার পূর্বশর্ত। সমন্বয়ের অভাবে জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়, নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ে। ফলে সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর ওপর মানুষের মনে বিরূপ ভাব, আস্থার সংকট ও অসহযোগিতার মনোভাব দেখা দেয়।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই ১০০ দিনের কাজের পরিকল্পনায় রুটিন কাজকে অব্যাহত রেখে অধিকতর জরুরি কিছু সেবাকার্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করি। মশকনিধন, বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বেহাল সড়কগুলোর সংস্কার এবং আলোকায়নসহ চসিকের সেবামূলক পরিধিতে গতিশীলতা আনা এবং আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই ও উপায় অন্বেষণের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মেয়র বলেন, অতিবৃষ্টি বা জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতা ও জলামগ্নতা চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পের ব্যয় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড। ২০১৭ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া এ প্রকল্প ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত করা হয়। এ কাজ এখনো শেষ হয়নি। নগরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান প্রধান খাল ও নালাগুলোর প্রায় প্রতিটির জায়গায় জায়গায় বাঁধ দেওয়া রয়েছে এবং খাল ও নদীর সংযোগ স্থলে বাঁধ দিয়ে স্লুইসগেট ও টাইডাল ওয়াটার রেগুলেটর সিস্টেম নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ।

মেয়র বলেন, উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের বালু, মাটি, বর্জ্য ও আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে খাল নালায় পতিত হয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে তা অপসারণ করা হয়। কিছু কিছু বাঁধ কেটে দিয়ে পানি চলাচলের পথ সুগম করে দেওয়া হয়। ফলে, দুর্ভোগের এ মাত্রা আর বাড়তে পারেনি।

চসিকের নিয়মিত পরিষ্কার অভিযানে দেখা যায় আবর্জনার এক-তৃতীয়াংশই হচ্ছে পলিথিন ও প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য। এসব বর্জ্য অসচেতনভাবে খাল নালায় নিক্ষেপ করছে মানুষ। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনে ও পানি নিষ্কাশনে অন্তরায় হয়ে আছে এসব পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য। পলিথিনের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে নদী ও শহর বাঁচাতে পর্যায়ক্রমে পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করতে চাই আমরা। এ ব্যাপারে সর্বমহল থেকে চসিককে সহযোগিতা করতে হবে।

নিজের শহরকে সুরক্ষিত, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে চসিকের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়াতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।