করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার

  |  Monday, July 5th, 2021 |  6:54 pm

বিজ্ঞানীরা সার্স-কোভ-২ বা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পরের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই পদ্ধতিতে তারা সফলভাবে দেখাতে সক্ষম হয়েছেন যে, ইঁদুরের শরীরে এই ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি কার্যকরভাবে থামিয়ে দেয়। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স’ জার্নালে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইকোনমিক টাইমসে। এতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পশুকে মডেল হিসেবে নেয়া হয়েছে। এরপর তাকে প্রোটিজ এনজাইম ব্যবহার করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ওই পশুর বেঁচে থাকার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে এবং তার ফুসফুসের সংক্রমণ কমিয়ে দিয়েছে ব্যাপকভাবে। এই প্রোটিজ ইনহিবিটর হলো ভাইরাস বিরোধী ওষুধ, যা নির্বাচিত কিছু ভাইরাল এনজাইমের জন্য ভাইরাসের প্রজনন বা বংশ বিস্তার থামিয়ে দেয়।
বন্ধ করে দেয় প্রোটিনের সক্রিয়তা। এসব প্রোটিন সংক্রামক ভাইরাস সম্পর্কিত পার্টিক্যালগুলোর বংশবিস্তারের জন্য অত্যাবশ্যক। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী প্রফেসর ইয়ুনজিয়ং কিম বলেছেন, করোনা ভাইরাসে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত বিড়ালকে চিকিৎসার জন্য আমরা প্রোটিজ ইনহিবিটর জিসি৩৭৬ উদ্ভাবন করেছি। পশুর ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্য ওষুধ হিসেবে এটি এখন বাণিজ্যিক পর্যায়ে উন্নয়নের কাজ চলছে। কোভিড-১৯ এর আবির্ভাব হওয়ার পর থেকে বহু গ্রুপ রিপোর্ট করেছে যে, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর এই ইনহিবিটর। তাই অনেকেই এখন চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য প্রোটিজ ইনহিবিটর উন্নয়নের কাজ করছে।

গবেষকদের টিম আধুনিকায়ন করা জিসি৩৭৬ এর সঙ্গে ডিইউটেরেশন নামের একটি হাতিয়ার ব্যবহার করেছেন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য। ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হওয়া প্রাণীর ওপর ডিইউটেরেটেড ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে যেসব ইঁদুরকে গবেষণায় চিকিৎসা দেয়া হয়নি, তাদের তুলনায় যেসব ইঁদুরকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে- তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গবেষণা বলে দেয় যে, ডিইউটেরেটেড ভ্যারিয়েন্ট সার্স-কোভ-২ বা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চমৎকার এন্টিভাইরাল এজেন্ট হিসেবে কার্যকর। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর কিউয়ং-ওক চ্যাং বলেন, ডিইউটেরেটেড জিসি৩৭৬ দিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার বেঁচে থাকার সুযোগ উন্নত করে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফুসফুসের ক্ষতি কমিয়ে আনে। কমিয়ে দেয় ওজন হারানোর ঝুঁকি।