আটকে পড়া প্রবাসীদের পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ

  |  সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ |  ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

দেশে আটকা পড়া প্রবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

                         করোনাকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ এবং কর্মপরিকল্পনাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।

                          মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন হয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২০‘র খসড়ার।

                   এছাড়া করোনাকালে বিদেশে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ফলে কর্মসংস্থান বাড়াতে করণীয় বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে কোভিড-১৯ মহামারিকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও যারা বিদেশে গেছেন তাদের কীভাবে আরও ভালোভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়া যায় বা কীভাবে আরো দেশে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা যায় সে বিষয়ে আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৯ সালে সাত লাখ ১৫৯ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়, টার্গেট ছিল সাত লাখ এক হাজার। ২০২০ সালে টার্গেট ছিল সাড়ে সাত লাখ।

কোভিড-১৯ এর কারণে গত জানুয়ারি থেকে আগাস্ট পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছর এই সময় পর্যন্ত চার লাখ ছয় হাজার ৯৬২ জন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রেমিট্যান্স ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেকর্ড ১৮ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া যায়। যেটা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

তিনি বলেন, আমরা কোভিডের কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম, কিন্তু এটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা একটা ভালো দিক।
তিনি জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জন কর্মী দেশে এসেছেন। এরমধ্যে ২৮ হাজার ৫৮৬ জন ট্রাভেল পাস নিয়ে ফেরত এসেছেন। এদের পুনরায় ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় এক কোটির মতো মানুষ বাইরে থাকেন বা কাজ করেন। বড় সংখ্যক লোকজন ট্রাভেল করেন।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ২৯ শে এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৭৪ জন বিদেশ থেকে আসেন। এদের এয়ারপোর্টে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

ইকামা পরিবর্তনে অনুরোধ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সৌদি আরবে যাওয়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কয়েকবার সময় বাড়ানো হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন, ওনারা আশ্বাস দিয়েছেন কনসিডার করছেন আরও বাড়ানো হবে, যাতে সবাই যেতে পারে।

পাশাপাশি ইকামা পরিবর্তন করার একটা ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন। কারণ অনেক দেশ থেকে অনেক উদ্যোক্তা চলে গেছেন। আমাদের বেশিরভাগ লোকই বেসরকারি সেক্টরে চাকরি করে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন আরও বেশি করে বিমান বা সৌদিয়ার ফ্লাইট অ্যালাও করার জন্য। ২৪ দিনের সময় আরও বাড়ানোর কথাও বলেছেন।