নিজস্ব পরিবহনে ইবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছাতে ছাত্র মৈত্রীর স্মারকলিপি

  |  Wednesday, July 7th, 2021 |  7:07 pm
পেশোয়ারের ইউসুফ কীভাবে হলেন দেশের নয়নমণি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে শাখা ছাত্র মৈত্রী। বুধবার (০৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আব্দুস সালাম বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের সংবাদ জানতে পারে শিক্ষার্থীরা। ফলে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে বাসাবাড়ি বা মেসে হঠাৎ সিট না পাবার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা গত ঈদুল ফিতরের পরপরই ক্যাম্পাস আশেপাশের বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে অবস্থান শুরু করে। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিদ্যমান লকডাউনে দূরপাল্লার সকল গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে নিজ বাড়িতে পৌঁছিয়ে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে না পারার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার উর্দ্ধগতি হওয়ায় উক্ত অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে এবং পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের ব্যবস্থা করতে দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগীয় শহরে নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রী।

ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী অঞ্চলে ও ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন দুরবর্তী জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা সবাই কঠোর লকডাউনে খাওয়া দাওয়া সমস্যা ও ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী এলাকায় করোনার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছি। এই অবস্থায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আমাদের বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমরা হোয়াটস অ্যাপ মাধ্যমে ভিসি স্যার, সরাসরি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, অনলাইন মাধ্যমে প্রক্টর ও পরিবহন প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছি এবং মুঠোফোন মাধ্যমে ভিসি স্যারে সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি পজেটিভভাবে নিয়েছেন এবং বলেছেন প্রক্টর স্যারের মাধ্যমে একটা লিস্ট তৈরি করে অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থা নেওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করে তবে আমরা ছাত্র মৈত্রীর পক্ষ থেকে তাদেরকে লিস্ট তৈরির বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ভিসি স্যার নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে কতজন শিক্ষার্থী আছে এর একটা পরিসংখ্যান বের করতে। কোন কোন জেলায় কতজন শিক্ষার্থী আছে এটা বের করতে পারলে একটা সিদ্ধান্তে আসা যাবে। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের সাথে কথা বলেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘স্মারকলিপিটা পেয়েছি। আমি প্রক্টর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাখাকে একটা লিস্ট করতে বলেছি যে কতজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আছে। সব বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’