ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

  |  বৃহস্পতিবার, জুলাই ৮, ২০২১ |  ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী অশ্বীনি কুমার চৌবি পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার রদবদলের খবরের কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার (৭ জুলাই) তারা দুজনে সরে দাঁড়ান। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী পোখরিয়াল নিশাঙ্ক এবং শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ারও পদত্যাগ করেছেন। একটি বড় সরকারের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এ ঘটনাকে ব্যাপক আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত সাত মন্ত্রীর পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে। এমন এক সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী সরে দাঁড়ালেন, যখন এপ্রিল ও মে মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক ধাক্কা লেগেছে। হাসপাতালগুলোতে তখন রোগীদের উপচেপড়া ভিড়ে শয্যা ও ওষুধের সংকটের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ অক্সিজেনের জন্য হাহাকার করছিলেন। অক্সিজেনের অভাবে বহু মানুষকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়েছে। করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন হর্ষ বর্ধন। মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনের মধ্যে বেশ কিছু বিতর্কেও জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে তাকে। যার মধ্যে এফএমসিজি কোম্পানির পতঞ্জলির বিতর্কিত করোনাবিরোধী কিট করোনিলের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় ইয়োগা গুরু রামদেবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে কোভিড-১৯ রোগে বিপর্যয়ে এই সংকটের সময়ে কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে জানা সম্ভব হয়নি। করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে সরকারকে এখন বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আর এটি নির্ভর করছে সরকারের টিকাদান পরিকল্পনার ওপর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিকাদান কর্মসূচি বড় হোঁচট খেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও পদত্যাগ করা মন্ত্রিরা হলেন, নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় দত্ত।
শিক্ষামন্ত্রী পোখরিয়াল নিশাঙ্ক দেশটির নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার সময়ে ভারতে অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশজুড়ে বিনামূলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন কোর্স করতে পেরেছেন।

গত ২১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে সর্বভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে (এআইআইএমএস) ভর্তি হয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি স্বাস্থ্য সংকটের কারণ দেখিয়েছেন।
এছাড়াও গতকাল কর্নাটকে থারচান্দ গেহলতকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মন্ত্রিসভার রদবদল দেখা গেছে।

এখনো নতুন মন্ত্রিদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বুধবার তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে পারেন। দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে ডজনখানেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।