আনোয়ারার ডিএপি সার কারখানা বন্ধ, দৈনিক ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি টাকা

 সানজিদা আক্তার |  বৃহস্পতিবার, জুলাই ৮, ২০২১ |  ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
আনোয়ারার ডিএপি সার কারখানা বন্ধ, দৈনিক ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি টাকা

আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র ডিএপি এফসিএল সার কারখানা। এই কারখানাটির মূল কাচামাল হিসেবে ব্যবহৃত  হয় ফসফরিক এসিড। এই ফসফরিক এসিড সংকটের কারনে গত ৫ দিন ধরে ডিএপি সার উৎপাদনকারী সার কারখানাটি বন্ধ হয়ে পড়েছে। কারখানাটির দৈনিক ৮ শত মেট্রিকটন সার উৎপাদন করার সক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে ভাবে বন্ধ হলে দিনে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের একমাত্র ডিএপি সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি।

ফসফরিক এসিড আমদানির ক্রয়প্রস্তাব (দরপত্র) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন না পাবার কারণে এই কারখানাটির মধ্যে অচলাবস্থার সৃস্টি হয়েছে । পুনরায় কারখানা চালু হবে কিনা এমন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে ।

ডিএপি সার কারখানা সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারার ডিএপি সারকারখানায় গত ১ জুলাই থেকে ফসফরিক এসিড মজুদ শেষ হয়ে যাবার ফলে গত ৫ দিন ধরে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বিসিআইসির পরিচালনাধীন দেশের একমাত্র ডিএপি সার উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠানটিতে ফসফরিক এসিড ক্রয়ের জন্যে কারখানার দরপত্রের বিপরীতে প্রাপ্ত টিইসি কর্তৃক মূল্যায়িত সর্বনিম্ন দুইজন দরদাতা হতে তিন দফায় ১শত ৭৭ কোটি ৩৬ লক্ষ ২৭ হাজার ২ শত ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড ক্রয়ের প্রস্তাব (আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ)  সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে অনুমোদনের গত ২ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।  প্রস্তাবটি শিল্প মন্ত্রণালয় কমিটিতে  যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল । সে অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামতও প্রেরণ করা হয়। প্রস্তাবটি গুরুত্ব বিবেচনায় ডিএপি এফসিএল সার কারখানার পক্ষ হতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করার পরও এখনো প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাই নি৷ ফলে  এসিড ক্রয়ের প্রস্তাবটি এখনো ঝুলে রয়েছে।
অতি কম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন না পেলে কারখানাটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একারনে   কৃষি মন্ত্রণালয়কে এক লক্ষ টন সার সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যার একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের কৃষিতে। সেই সাথে কারখানাটি অনিষ্টকাল বন্ধ থাকলে কারখানাটি পুনরায় চালু করতে রক্ষণাবেক্ষণ খরচেও অনেক টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন কারখানা  সংশিষ্টরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএপি সার কারখানার জেনারেল ম্যানেজার ( অপারেশন) আব্দুর রহমান বাদশা জানান, বর্তমানে ফসফরিক এসিড সংকটের কারনে কারখানার উৎপাদন গত ৫ দিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছে। গত ২ জুন ফসফরিক এসিড ক্রয়ের প্রস্তাবটি শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়, প্রস্তাবটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরো জানান দেশের একমাত্র ডিএপি সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এভাবে বন্ধ থাকলে যার একটি দীর্ঘস্হায়ী প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের কৃষিতে। ‘

কারখানার সিবিএ সভাপতি ফরিদ আহাম্মদ জানান, ফসফরিক এসিড সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানার সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারনে শ্রমিক কর্মচারিদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।