কথিত পুলিশের সোর্সকে টাকা দিলে কি মোটরসাইকেল উদ্ধার হবে ?

  |  সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ |  ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকা সম্প্রতি মোটরবাইক চুরির ঘটনা উদ্বেগ জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত একমাসের ব্যবধানে এখান থেকে অন্তত ৫টি বাইক চুরির ঘটনা ঘটলেও থানার পুলিশ চোরাইকৃত বাইক উদ্ধার কিংবা এতে জড়িত কারো টিকিটিও ছুঁতে পারেনি। উপরন্তু পুলিশের কথিত সোর্স পরিচয়ে চুরি যাইয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের নামে সোর্সমানি দাবী করার মতন বিস্ময়কর ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর এডভোকেট ইমরান হোসাইন চৌধুরী আইনজীবী ভবন এনেক্স দুইয়ের নীচে তাঁর ব্যবহৃত মোটরবাইক রেখে আদালতে যান। কাজ শেষে বিকেলে এসে তিনি দেখেন তাঁর ব্যবহৃত হিরো হোন্ডা মোটরবাইক [চট্টমেট্রো ল-১১-৯৩০৮] কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। এই ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করা হলেও এই রিপোর্ট লেখাকালীন সময় পর্যন্ত পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ছাড়া বাইকটি উদ্ধার বা চোর চক্রের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর জুমা’র নামাজ শেষে চৈতন্যগলিস্থ
কবরস্থানে নিজের মোটরবাইকযোগে জেয়ারত করতে যান নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বদরুজ্জামান। তিনি তাঁর ব্ল্যাক ব্লু রঙের পালসার বাইক [নম্বর চট্টমেট্রো-ল-১৩-৩৩৬৯] কবরস্থানের বাইরে রেখে জেয়ারত করতে ভিতরে প্রবেশ করেন। জেয়ারত শেষে ফিরে এসে তিনি দেখেন তাঁর বাইকটি উধাও হয়ে গেছে। আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করে না’পেয়ে সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় জিডি [ নম্বর ১১৮১] করেন ব্যাবসায়ী বদরুজ্জামান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাদে জুমা জেয়ারত করতে আসা জনৈক মুসুল্লিরও মোটরবাইক চুরির ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এই বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ না’করায় বিষয়টি আর আলোচনায় আসেনি। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর নগরীর সিআরবি এলাকা থেকে আরো একটি সুজুকি মোটরবাইক চুরি যায় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে । কিন্তু এই বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ থানায় এসেও ঝামেলা এড়াতে কোনো মামলা বা জিডি না’করে ফিরে আসেন। এর ফলে মোটরবাইক বা এর মালিক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন’র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শামসুল হুদা মিন্টু’র চোরাই যাওয়া মোটরবাইকের হদিস মিলেনি। চুরি ঘটনার মাস পার হলেও কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাইক উদ্ধার দূরের কথা রহস্যময় চোরের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি। সেদিন চুরি ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে থানায় অভিযোগ করে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছিল অথচ অদ্যাবধি নুন্যতম কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

উল্লেখ্য গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা এলাকার কোর্ট রোডের জমজম হোটেলের সামনে থেকে সাংবাদিক মিন্টুর মোটর বাইক হিরো গ্ল্যামার [ নম্বর চট্টমেট্রো-হ-১৫-৪৬৭৮] চুরি যায়। এই ব্যাপারে ঐরাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করা হয়। এদিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা তিনটা নাগাদ সাংবাদিক মিন্টুর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে জনৈক ব্যক্তি ০১৭২৩৯৯৮৪১৯ নম্বর থেকে নিজেকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে ফোন করে। কথিত সোর্স চুরি যাওয়া মোটরবাইক তাদের সিন্ডিকেটের হাতে থাকার কথা জানায়। তা উদ্ধার করে দেয়ার জন্য মিন্টুর থেকে সোর্সমানি হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবী করে। টাকাগুলো ৩০ মিনিটের মধ্যে ০১৭৮১৯৬০৬৬৬ নম্বরে বিকাশ করে দেয়ার তাগাদা দেয় হয়। বিকাশে টাকা পরিশোধ হলে নিউ মার্কেটের পার্কিং থেকে চুরি যাওয়া মোটরবাইকটি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় কথিত ঐ সোর্স।

মোটর সাইকেল চুরির প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহসীন চট্টলা২৪কে বলেন, গত একমাস আগেও আমরা বিভিন্ন সময় চুরি যাওয়া ৬টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছি। আমরা আইনী প্রক্রিয়ায় গ্রেফতারকৃত চোরকে আদালতে প্রেরণ করি৷  আদালত থেকে চোরচক্র জামিন পেয়ে বেরিয়ে আবার পুরানো পেশায় ফিরে যায়। সম্প্রতি চুরি যাওয়া কয়েকটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে না পারার কথা স্বীকার করে মহসীন বলেন, এসব চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের তৎপরাতা চলছে। তবে আমার থানায় এমন কোন সোর্স নেই।