হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষার প্রহর গুনছে সুদীপ্তের বাবা মা

  |  মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২০ |  ১১:০৮ অপরাহ্ণ

২০১৭ সালের ৬ ই অক্টোবর ভোরে নগরীর সদরঘাটের নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। শুধুমাত্র ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্তকে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানান তার সহপাঠীরা।

বিচার চেয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মেঘনাথ বিশ্বাস বলেন, একটাই আকুতি, ছেলে হত্যার সঠিক বিচারটা যেন অন্তত হয়। অনেক প্রভাবশালী মহল নানান ভাবে  গত তিন বছর ধরে কাঁদতে কাঁদতে চোখের জলও গেছে শুকিয়ে। এখন হয়তো বেঁচে আছি হত্যা মামলার রায় টুকু দেখার অপেক্ষায়।

উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি প্রথমে নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করলেও ২০১৮ সালের ৮ই অক্টোবর এটি তদন্ত করতে পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করে সিএমপি।

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। এই মাসের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
হত্যার ‘হুকুমদাতা’ আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাউকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকের মাঝে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে কাদের আসামি করা হচ্ছে জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনুদ্দীন বলেন, “আমরা সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করিনি। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা বিভিন্নভাবে অভিযুক্ত এ হত্যাকাণ্ডের সাথে। সুতরাং সবাইকে আসামি করা হচ্ছে।”

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। আজ মঙ্গলবার হত্যাকাণ্ডের তিন বছরপূর্তি হলো।
সুদীপ্তর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বাদি হয়ে সদরঘাট থানায় অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করে যে হত্যা মামলা করেছিলেন, এক বছর পর তারই আবেদনে আদালত এর তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়।

হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্রলীগের একাংশ লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুমকে দায়ী করলেও গ্রেপ্তারকৃতদের কারও জবানবন্দিতে তার নাম আসেনি; এক ‘বড় ভাই’ হুকুমদাতা ছিলেন বলে তাদের ভাষ্য।

গত বছরের ১২ জুলাই গ্রেপ্তার মিজান হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে মাসুমের নাম বলার পর গ্রেপ্তার হন মাসুম। তিনি ছাড়াও এ মামলায় আরও ১৭ গ্রেপ্তার হয়েছেন, যারা সবাই মাসুমের অনুসারী বলে পরিচয় দিয়েছেন। এদের মধ্যে চার জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, “সুদীপ্তকে পিটিয়ে মারার যে ভিডিওটি মোক্তারের কাছে পাওয়া গিয়েছিল সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

“যেহেতু মোক্তার জামিনে আছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি তার করা ভিডিওটি সে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে যাদের পাঠিয়েছিল সেটির ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজন। ১২ ই অক্টোবর এ নিয়ে আদালতে শুনানি আছে।”
এই প্রতিবেদন আসার পরই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে বলে জানান সন্তোষ।
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিতে চায় না। আমরা তদন্তের সময় ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু কেউ সে বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।”
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, লালখান বাজার এলাকা থেকে আটটি অটোরিকশা করে দক্ষিণ নালাপাড়া গিয়েছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা। পিবিআই মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর সাতটি অটোরিকশা জব্দ করে। জব্দ করা হয়েছে একটি মটরসাইকেলও।
এসব অটোরিকশা চালকদের মধ্যে তিন জন সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।