কর্ণফুলীর পাড় কেন ব্যবসায়ীদের লিজ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

  |  বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২০ |  ১:৫৯ অপরাহ্ণ

কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, দখল ও দূষণ রোধে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়ন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও চসিক উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনা সভায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড় লিজ দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ কেন দিচ্ছেন আমি জানি না। মহিউদ্দিন সাহেব আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধেও কথা বলতেন। তাঁর মধ্যে বেসিক দেশপ্রেম ছিল।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখেন। পথনকশা তৈরি করেছেন। ঢাকাতে উন্নতি সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। গ্রামেও পৌঁছে দেওয়া হবে। আমাদের বিভিন্নভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের উপলব্ধি এসেছে, বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ হবো। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা অর্থনীতির শঙ্কার জায়গা থেকে বেরিয়ে গেছি। কোভিডের কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও আমরা জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা মোকাবেলা করতে পারবো। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ইকোনমিক হাব। সমুদ্রবন্দর গড গিফটেড। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ২০০০ সালেই সিঙ্গাপুর হতো। আমাদের প্রাকৃতিক সুযোগ রয়েছে।
ঢাকার পাঁচটি নদী ও কর্ণফুলীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল ও দূষণ বন্ধে কাজ করছি আমরা। ঢাকার বাইরে এটি প্রথম সভা। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছিলেন সভাটি এখানে করার জন্য। দুর্ভাগ্য তিনি এখন অসুস্থ।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম দৃষ্টিনন্দন শহর হবে। গড গিফটেড অপরচুনিটি রয়েছে। আউটার রিং রোড, কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ করতে পারলে হাজার হাজার পাঁচ তারকা হোটেল হবে। এর জন্য রকেট সায়েন্সের দরকার হবে না। শুধু চট্টগ্রাম পর্যটন খাত দিয়ে পুরো দেশকে এগিয়ে নেবে। তবে অবকাঠামো যাতে আগামী দিনের দুর্ভাগ্য ডেকে না আনে।
‘প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ব্যাপারে আন্তরিক। তাই এত প্রকল্প ও টাকা দিয়েছেন। আরও দেবেন যদি কাজে লাগাতে পারি। আগে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলতেন, ইনকাম জেনারেট করতে হচ্ছে। এখন সরকার সহায়তা দিচ্ছে। ’
তিনি বলেন, আপনি যে সালাম পাওয়ার কথা আমি দেব। কিন্তু আমি যা পাব তা না দিলে ছাড় দেব না। একবার ওয়াসার টাকা দেয় না সিভিল অ্যাভিয়েশন। আমি বললাম, পানির লাইন কেটে দাও। মানুষ দেয় না-এ কথা আমি বিশ্বাস করি না। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
‘পানির কস্টিং ২২ টাকা পড়লে আপনি দেন ৯ টাকা। হোল্ডিং ট্যাক্স সবাইকে দিতে হবে। মানুষের কল্যাণে যত কাজ সব স্থানীয় সরকার করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্টের বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। ১০ টাকা বেশি খরচ হলেও কাটাকাটি সারা বছর চলবে কেন? ধুলোবালিতে ভারী ধাতু উড়ছে। মানুষ অসুস্থ হচ্ছে।  সব ইউটিলিটি লাইনের জন্য সড়কের পাশে ঢাকনাযুক্ত লেন রাখতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে অনেক স্লুইসগেট করবেন। এমএস, জিএস শিট থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে। ড্রেন, কালভার্ট সঠিকভাবে করতে হবে। ’
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজস্ব আহরণ করে বন্দর। বন্দর থেকে ট্রাক বের হয়ে সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ব্যবহার করে। চসিককে তো কেউ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ফ্রি দিচ্ছে না। চট্টগ্রামের উন্নতির ক্ষেত্রে আপস করবো না। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করায় চসিককে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের না পাওয়ার কথা শুনে আমার নিজেরই কান্না এসেছিল। তিন বছরের বেশি সময় পোর্ট কানেকটিং রোডের দুরবস্থা চলছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, নৌসচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, চসিকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম চৌধুরী, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস প্রমুখ।