করোনাকে পিছনে ঠেলে আবার জেগে উঠলো চট্টগ্রাম ফুটবল

  |  সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২০ |  ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

প্রবেশমুখে সুদৃশ্য তোরণ। প্যাভিলিয়নের দেয়াল থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত বিশাল আকৃতির একটি ফেস্টুন নিচ পর্যন্ত নেমে গেছে। সন্ধ্যার আগেই ফ্লাডলাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। করোনার ক্রান্তিকাল পেছনে ঠেলে মুজিব শতবর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে আবার জেগেছে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। জাতীয় দল এবং বাংলাদেশ লিগের ফুটবলারদের সমন্বয়ে এই টুর্নামেন্ট নিয়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আবার মাঠমুখী হচ্ছেন ফুটবলাররা।

চট্টগ্রামের ৯২ জন ফুটবলার এবং দুজন জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড়সহ বাংলাদেশ লিগের ২৫ ফুটবলার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা সবাই চট্টগ্রামের খেলোয়াড়। সব খেলোয়াড়ের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন টুর্নামেন্টটির ইতিবাচক দিক দুইভাবে ব্যাখ্যা করলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতা কাটাবে।

পাশাপাশি দীর্ঘদিন অনুশীলন এবং মাঠ থেকে দূরে থাকা ফুটবলারদের মধ্যে গতি সঞ্চার করবে। অনেক ফুটবলার করোনাকালে অর্থকষ্টে রয়েছেন। তাঁরা একটা সহযোগিতার আওতায় আসবে। তিন শ্রেণিতে ভাগ করে ৯২ জন ফুটবলারকে আর্থিক সহযোগিতা দেবে সিজেকেএস।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চার দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। দলগুলোর নামও রাখা হয়েছে প্রয়াত চার ক্রীড়া সংগঠকের নামে। এম এ তাহের একাদশ, কামাল এ খান একাদশ, এস এম কামাল উদ্দিন একাদশ ও রফিক আহমেদ চৌধুরী একাদশ। লিগ পদ্ধতির এই আয়োজনের পর্দা নামবে ১৮ অক্টোবর।

ফুটবলারদের সমন্বয়ক জাতীয় দলের সহকারী কোচ চট্টগ্রামের ছেলে মাসুদ পারভেজ কায়সার বলেন, করোনার মধ্যে কেউ কেউ নিজেরা অনুশীলন করেছে। কিন্তু দলগত অনুশীলন করতে পারেনি। এখন দলগত অনুশীলন এবং ম্যাচের মাধ্যমে নিজের ফিটনেস এবং সামর্থ্য সম্পর্কে জানতে পারবে খেলোয়াড়েরা। নিজেকে জাতীয় পরিসরের আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করতে পারবে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে স্থানীয় লিগে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের কীভাবে খেলাবেন, তার একটা উপায় খুঁজে পাবেন বলেও মনে করছেন সাবেক এই ফুটবলার।

ফুটবলাররা এই টুর্নামেন্ট উপভোগ করছেন। জাতীয় দলের গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল বলেই ফেললেন, ‘আমার ১২ বছর ফুটবল ক্যারিয়ারে এই প্রথম ঘরের মাঠে কোনো টুর্নামেন্টে খেললাম। এ কারণে গত দুই সপ্তাহ দলগত অনুশীলন করতে পেরেছি। করোনার পর এই টুর্নামেন্ট সামনের জন্য খুব উপকারী হবে।’

মে-জুন মাসে চট্টগ্রাম করোনার মহামারি সময় পার করেছে। এখন তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে করোনা সংক্রমণ। করোনার ভয় দূরে ঠেলে সাধারণ লোকজনও হাটে–মাঠে বের হয়েছেন। ফুটবলপ্রিয় হাজার দুয়েক দর্শকও মাস্ক মুখে প্রতিদিন স্টেডিয়ামে ভিড় করছেন। তাঁদের এই শ্রম বিফলে যাচ্ছে না।

এই যেমন শনিবারের ম্যাচটার কথাই ধরা যাক। ডা. কামাল এ খান একাদশ ও কামাল উদ্দিন একাদশের ম্যাচটি ১২০ মিনিট ১-১ গোলে সমতা ছিল। টাইব্রেকারে ২২টি করে শট নেওয়ার পর কামাল এ খান একাদশ শেষ হাসি হাসে। তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন দর্শক–আয়োজক সবাই।