আদালতে সুদীপ্ত হত্যা মামলার আসামির উপর হামলা

94

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আসা কয়েকজন আসামির উপর প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্লোগান দিতে দিতে দু’পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোক্তার নামে এক আসামী সহ আরও কয়েকজন আহত হন।

IMG 20201012 200848আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে নতুন আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

সুদীপ্ত হত্যা মামলার আসামী মোক্তারের আইনজীবী শাহেদুল আজম জানান, মোক্তার সহ ১০ জন আসামি সোমবার সকালে ওই আদালতে হাজিরা দেন। হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় আদালত কক্ষের সামনেই প্রথমে ২৫-৩০ জন মিলে মোক্তারকে টানাহেঁচড়া শুরু করে। হাজিরা দেওয়া কয়েকজন আসামিসহ মোক্তারের কয়েকজন বন্ধু তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। এসময় তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন হামলাকারীরা।

আইনজীবী শাহেদুল আজম বলেন, হাজিরা দেওয়ার পর মোক্তার নিজেই আমার কাছে তার ওপর হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। আমি আদালত কক্ষে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথার গুরুত্ব দেননি। পরে যখন সত্যিই হামলা শুরু হয়, পুলিশ সদস্যদের দেখি ভীতসন্ত্রস্ত্র অবস্থায় আদালত কক্ষের ভেতরে জড়ো হয়ে আছেন। আমি হামলা ঠেকানোর অনুরোধ করতে পুলিশের এডিসি-প্রসিকিউশনের কক্ষে যাই। সেখানে তিনি ছিলেন না। পরে কোতোয়ালি থানা থেকে পুলিশ আসে। ততক্ষণে হামলাকারীরা চলে যায়।

নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা বলেন, ‘প্রথমে মোক্তারের ওপর হামলা হয়। তারপর আসামিদের দু’পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। মোক্তার ও আরিফ নামে দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। মোক্তারের বন্ধু জাবেদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

আহত মোক্তার বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা নোবেল চাকমা।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে যে ঘটনাটি ঘটে গেল, এটি খুবই ন্যাক্কারজনক। আদালতে যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সেটা উদ্বেগের। আমরা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।