সাতকানিয়া পৌরসভার ০২ কর্মকর্তার ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের সম্পৃক্ততা

68

সাতকানিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিত দাশ ও হিসাবরক্ষক এএইচএম আলমগীরের বিরুদ্ধে ব্যাংক একাউন্ট ছাড়াও নগদে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

প্রকৌশলী বিশ্বজিত দাশকে রংপুর জেলার হারাগাছ পৌরসভায় এবং হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা এএইচএম আলমগীরকে দিনাজপুর পার্বতীপুর পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের পৌর-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি করা হয়েছে।

সাতকানিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিত দাশ ও হিসাবরক্ষক এএইচএম আলমগীরের বিরুদ্ধে ব্যাংক একাউন্ট ছাড়াও নগদে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ এইসব লেনদেনের স্বচ্ছতা রাখতে গিয়ে তারা দুইজন আবার খুলেছেন যৌথ ব্যাংক একাউন্টও। কোটি কোটি টাকার লেনদেন করা এই দুজনের মধ্যে মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিত ৭ম গ্রেডভুক্ত এবং হিসাবরক্ষক আলমগীর ১২তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারী।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের আদেশে সাতকানিয়া পৌরসভার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা এএইচএম আলমগীরকে ১৮ ই অক্টোবর দিনাজপুর পার্বতীপুর পৌরসভায় যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৯ অক্টোবর থেকে স্ট্যান্ডরিলিজ হিসেবে গণ্য হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। একইভাবে সাতকানিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিত দাশকে ১৮ অক্টোবর রংপুরের হারাগাছ পৌরসভায় যোগদান করতে বলা হয়েছে।
স্বল্প বেতনের এই দুই সরকারি কর্মকর্তার যৌথ ব্যাংক একাউন্টে ২২ মাসে লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে হিসাবরক্ষকের ব্যক্তিগত একাউন্টে গত কয়েক বছরে ঢুকেছে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আবার সহকারী প্রকৌশলীর বৃদ্ধা মায়ের একাউন্টেও লেনদেন হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। এছাড়া বেনামে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেও খোলা ব্যাংক একাউন্টে বিপুল অংকের টাকা লেনদেন করেছেন এই দুই কর্মকর্তা। সুত্রে জানা যায়, প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে দুজনের বিভিন্ন একাউন্টে।
এনসিসি ব্যাংক কেরানীহাট শাখায় সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিত দাশ এবং হিসাবরক্ষক এএইচএম আলমগীরের যৌথ একাউন্টে (নম্বর ০০৫৮০৩২০০০১২৯০) ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ মাসে লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮১৭ টাকা। এনসিসি ব্যাংকের ওই শাখায় আলমগীরের ব্যক্তিগত একাউন্টে (নম্বর ০০৫৮০৩১০০০৯৫২৪) ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা হয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ৪৮৫ টাকা। একই সময়ে উত্তরা ব্যাংক লোহাগাড়া শাখায় সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিত দাশের মা শোভা রানী দাশের নামে গড়ে তোলা ‘শোভা এন্টারপ্রাইজের’ একাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সাতকানিয়ার কেরানীহাট ও লোহাগাড়ায় দুজনেরই ব্যক্তিগত ও ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট। সেখানেও অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

নকশাকারক হিসেবে লামা পৌরসভায় চাকরিজীবন শুরু করা বিশ্বজিত দাশ বর্তমানে সাতকানিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী। অন্যদিকে সাতকানিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে হিসাবরক্ষক পদে চাকরি করে আসছেন এএইচএম আলমগীর। দীর্ঘদিন ধরে সাতকানিয়া পৌরসভায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কর্তাব্যক্তিদের প্রশ্রয়ে তারা দুইজনে গড়ে তুলেছেন লুটপাট সিন্ডিকেট।