চট্টলা24′ এ সংবাদ প্রচার : অবশেষে চট্টগ্রামের আলুর বাজারে প্রশাসনের অভিযান।।

23

রিয়াদ হাসান।। আলুর বাজারের লাগামহীন দাম নিয়ে গত ১৮ অক্টোবর চট্টলা24 সংবাদ প্রচার করা হয়৷ সেই প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক দাম নিয়ন্ত্রনে বাজার মনিটরিং এ মাঠে নামার কথা জানিয়েছিলেন৷ অবশেষে আজ সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তার নেতৃত্বে নগরীর বৃহত্তর আলুর আড়ত রিয়াজুদ্দিন বাজারে অভিযানে নামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এসময় আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ১০ আড়তদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বমোট এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে আলুর আড়তে গিয়ে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা পাইকারি বিক্রয় করার নির্দেশনা থাকলেও ৪০ টাকার উপরে বিক্রি করছিল। এছাড়াও তারা খুচরা ব্যাবসায়ীদের কাছে আলু বিক্রি করার বিক্রয় রশিদ দেখাতে পারেনি। বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আলুর দাম বৃদ্ধি করে আড়তদাররা আলু বিক্রি করছিলো। যার ফলে ১০ টি আড়তকে প্রায় ১,৪০,০০০ (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। মেসার্স কুমিল্লা ট্রেডার্সকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা, রফরফ বাণিজ্যালয়কে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা, মেসার্স মক্কা বাণিজ্যালয়কে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা, মেসার্স মামুন ট্রেডার্স কে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা, মেসার্স মা বিতান ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা, মেসার্স কুসুমপুরা বানিজ্যালয়কে ১০,০০০ ( দশ হাজার টাকা), মেসার্স জননী ট্রেডার্সকে ১০,০০০ ( দশ হাজার টাকা), মেসার্স দাউদকান্দি বাণিজ্যালয় ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা, নিউ রাজমহল বাণিজ্যালয়কে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা, মেসার্স আশীষ লালধর এন্ড ব্রাদার্সকে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সরকার পাইকারি ক্ষেত্রে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি নির্ধারণ করে দিলেও আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ৪২ টাকার উপরে বিক্রয় করছিল। এমনকি খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে কোন ধরনের বিক্রয় রশিদ দেয়নি যার ফলে বিক্রয় রশিদ ও ক্রয় রশিদ দেখাতে পারেনি। অর্থাৎ দাম নিয়ে কারসাজির প্রমাণ মেলে। ফলে ১০ আড়তদার ও পাইকারি ব্যাবসায়ীকে অর্থদণ্ড করা হয়।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বদিউল আলম বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং অব্যাহত আছে। তারপরও কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী সরকারের বেঁধে দেয়া দামে আলু বিক্রয় না করার অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। যার ফলে অভিযানে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, যারা দাম কারসাজির মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করছে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও যারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের বাজার মনিটরিংসহ অভিযান অব্যাহত থাকবে।