পুলিশে যোগদান করেই আকবরের পরিবর্তন চোখ ধাঁধানো

63

পুলিশ হেফাজতে সিলেটে যুবক রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়া এখন সারাদেশে আলোচিত ও সমালোচিত। তার এই ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার বগইর গ্রামের জনগণও।

কনস্টেবল পদে ২০০৭ সালে চাকুরীতে যোগদান করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আকবর হোসেন কে। ২০১৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে এসআই। পুলিশে যোগদান করার পর বদলে গেছে আকবর হোসেন ভূঁইয়া ও তার পরিবারের অবস্থা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা বগইর গ্রামে জাফর আলী ভূঁইয়ার বড় ছেলে পুলিশের এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। সবার বড় বোন। পুলিশে তার চাকরি হওয়ার পর বদলে যায় তার পুরো পরিবারের অবস্থা। এক ভাইকে প্রবাসে পাঠিয়েছেন। অন্য ভাইকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন তিনি। বোনদের বিয়েও দিয়েছেন। গ্রামের বাড়িতে নির্মিত হচ্ছে বিলাসবহল দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। প্রথম তলার কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছেন।

পাশাপাশি বাড়ির সামনে নির্মাণ করছেন আধুনিক একটি গেট। যার নির্মাণ কাজ এখন চলছে। তার বাড়ির আশপাশে রয়েছে তাদের নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তি। আর সব কিছু হয়েছে পুলিশের কর্মকর্তা আকবর হোসেন ভূঁইয়ার বদৌলতে।

এদিকে নিজ এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা আকবর হোসেন ভূঁইয়া ও তার পুরো পরিবারের অবস্থান বিতর্কিত। তার পিতা জাফর আলী ভূঁইয়া স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি ছিলেন। মামলায় জেলও খেটেছেন এক মাস।

বিএনপি আমলে ওই পরিবারের ছিল একক আধিপত্য। সময়ের সঙ্গে তারা এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। অভিযোগ আছে, টাকার বিনিময়ে তিনি পুলিশে চাকরি নিয়েছিলেন। পুলিশের চাকরিতে যোগদান করে হয়েছেন অগাধ সম্পত্তির মালিক।

স্থানীয় এক মান্যগণ্য ব্যক্তি জানান, এক সময় এই গ্রামের ছেলে পুলিশে চাকরি পেয়েছিল বলে আমরা গর্ব করতাম। সিলেটের ঘটনার পর তা আর করতে ইচ্ছা করে না। আগে তাদের পরিবারে অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। পুলিশে চাকরির পর তাদের অবস্থা আলাউদ্দিনের চেরাগ কাহিনীকেও হার মানানোর মতো।

রাফি হোসাইন নামে আরেকজন জানান, ঘটনাটি আশুগঞ্জ উপজেলার জন্য কলঙ্কজনক। পাশাপাশি তার সব সম্পত্তির হিসাব তদন্ত ও তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হানিফ মুন্সি জানান, বিষয়টি আশুগঞ্জের জন্য খুবই লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় কাজ। পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তা আকবর হোসেন ভূঁইয়া ও তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কখনও জড়িত ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
তবে তার গ্রামের বাড়িতে থাকা তার ছোট ভাই আরিফ ভূঁইয়া জানান, তার ভাই আকবর ভূঁইয়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না।