সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার না হলে ঢাকা অভিমুখী লং মার্চের হুমকি

345

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা নির্যাতনের অবিলম্বে বিচার না হলে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ করা হবে বলে চট্টগ্রামে গণঅবস্থান কর্মসূচি থেকে হুঁশিয়ারি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

নগরী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিভিন্ন সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন। যার ফলে কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে নিউমার্কেট মোড় থেকে চর্তুমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘যে অত্যাচার নির্যাতনের কথা বলেছি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার চাই, তদন্ত চাই। যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি দিক- এটি চাই। মিথ্যা অভিযোগে যারা গ্রেপ্তার তাদের কারাগার থেকে মুক্তি চাই।’

‘যদি সরকার দাবি না মানে কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি ঘোষণা করব। প্রয়োজনে লং মার্চের মত কর্মমসূচি দিব। পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাবো।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী-নেতাকে আমাদের আর বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। কারণ তারা যা বলেন তা করেন না, যা করেন তা বলেন না। সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় আপনি অনেকবার অনেক ভূমিকা রেখেছেন। উপর থেকে পানি ফেলেছেন কিন্তু সেই পানির নিচের দিকে দেখা আমরা পাইনি। কারণ আপনার দলের ভেতর দল আছে, আপনার প্রশাসনে পাকিস্তান আছে।’

তিনি আরোও বলেন, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাধ্য হয়ে দেশের সকল সংখ্যালঘু সংগঠন বাধ্য হয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে। আমরা কখনো চাইনি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এদেশের সংখ্যালঘুরা সমঅধিকারের জন্য লড়াই করতে হবে।’

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে যে পরিবর্তন এসেছে সেটিকে আমরা স্বাধীনতার চেতনায় ফেরাতে পারিনি। আজ রাজনীতি ও সমাজে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্খা থেকে আজ আমরা অনেক দূরে।’

অধ্যাপক জিন বোধী ভিক্ষু বলেন, ‘আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফিরতে চাই। আজ কেউ ভালো নেই। আপনারা কী আমাদের কথা শুনতে পাচ্ছেন না? সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের উপর অবিচার হচ্ছে। নির্যাতন হামলার বিচার না হলে আমরা আপনাদের পাশ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হব।’

কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিষদ নেতা চন্দন তালুকদার, শ্যামল কুমার পালিত, অশোক দাশ, ব্রহ্মচারী গদাধর দাশসহ পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিউমার্কেট মোড় থেকে কোতোয়ালীর মোড় হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।