ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘আক্রমণ পরিকল্পনা’ ফাঁস

200

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে দেশটিতে হামলা করতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে উপদেষ্টাদের কাছ থেকে সায় না মেলায় পিছিয়ে আসেন তিনি।

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত সপ্তাহে ইরানে হামলা কথা বিবেচনা করেছিলেন তিনি। সোমবার মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তবে উপদেষ্টারা তাকে সতর্ক করেন যে, এমন পদক্ষেপ বড় ধরনের সংঘাত তৈরি করতে পারে।

অন্তত চারজন বর্তমান ও প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, ইরানের পারমাণবিক পদার্থের মজুদ বৃদ্ধির ঘটনায় উপদেষ্টাদের নিয়ে এ বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জানুয়ারিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দুই মাস আগে ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় (নাতাঞ্জ নিউক্লিয়ার সাইট) হামলা চালানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন (আইএইএ) জানায় যে, ইরান ১২ গুণ বেশি ইউরেনিয়াম মজুদ করছে।

নিউইয়র্ক টাইমসকে ওই চার সূত্র বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের কাছ থেকে ট্রাম্প জানতে চান, কী উপায়ে এ হামলা চালানো যায় এবং এর প্রতিক্রিয়া কীভাবে মোকাবিলা করা যায়।’

প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে, ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজে এ হামলা চালানোর বিবেচনা করা হয়েছিল। যদিও ইরান দাবি করে, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য তাদের এ পরমাণু কর্মসূচি।

তবে এ হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেন তার উপদেষ্টারা। তাদের মধ্যে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

পুরো বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র পরবর্তীতে জানাচ্ছেন, ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামো এবং তাদের মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর উপায় খুঁজছেন এখনো। ইরাকে শিয়া মিলিশিয়াদের ওপরও সেই হামলা হতে পারে।

মার্কিন নির্বাচনে হেরে ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমন মুহূর্তে ইরানের ওপর প্রকাশ্য বা গোপন কোনো অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার অন্যান্য সংস্থাগুলোও।

এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকারের এক মুখপাত্র আলি রাবিয়ি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।