বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পিটিএ স্বাক্ষর

63

অনলাইন ডেস্ক।।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) পারস্পরিক স্বার্থের দিক দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহত করবে।

রবিবার (৬ ডিসেম্বর) গণভবন থেকে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম পিটিএ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন সময় এসেছে আমরা পারস্পরিক সুবিধার জন্য এবং উভয় দেশের নাগরিকদের সামগ্রিক উন্নতি ও কল্যাণের জন্য আমাদের অসাধারণ সম্পর্ককে আরও বেশি অর্থবহ করে তুলি। এ চেতনায় আমরা আজ ভুটানের সঙ্গে পিটিএতে স্বাক্ষর করেছি। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এবং ভুটান থেকে বিস্তৃত পণ্য একে অপরের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। চুক্তিতে পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তালিকা অন্তর্ভুক্ত করারও বিধান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কেননা আমরা বিশ্বের কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের প্রথম পিটিএ স্বাক্ষর করছি। আর ভুটানই প্রথম দেশ, একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং সে দেশের রাজধানী থিম্পু থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। রাজধানীর বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে মূল অনুষ্ঠানের অন্য প্রান্তে ভুটানও সংযুক্ত ছিল।

বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ভুটানের অর্থমন্ত্রী লিয়নপো লোকনাথ শর্মা নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভুটানের স্বীকৃতি দেওয়া এই দিনটিকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দেশ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিন হিসেবে বেছে নেয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্কের ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী একযোগে একটি লোগো উন্মোচন করেন এবং পৃথক কেক কাটেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ চুক্তির ফলে ভুটান তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য এবং ইলেকট্রনিকসসহ ১০০টি বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে ফলমূলসহ ৩৪টি ভুটানের পণ্য বাংলাদেশে একই সুবিধা পাবে। পরে আলোচনার মাধ্যমে আরও পণ্য দুই দেশের তালিকায় সংযুক্ত করা হবে। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পিটিএ এবং এফটিএ স্বাক্ষরের যাত্রা শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের তৃতীয় রাজা এবং জনগণের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের হৃদয়ে ভুটানের একটি বিশেষ অবস্থান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্থায়ী জায়গা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুহূর্তেই আমাদের সব দুঃখ, কষ্ট ভুলে গেলাম, আমরা চিৎকার-চেচাঁমেচি, হুল্লোড় এবং কান্না জুড়ে দিলাম, যা আমি কখনো ভুলতে পারব না। দীর্ঘ সময় বন্দী অবস্থায় কাটানোর পর এটি এমনই একটা ঘটনা ছিল। এটি এমন একটি উৎসাহব্যঞ্জক, প্রেরণাদায়ক এবং আনন্দময় ঘটনা ছিল, যা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

বাংলাদেশ ও ভুটানের যোগসূত্রকে ‘অত্যন্ত প্রাচীন’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ আমাদের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বাণিজ্য, পর্যটন, জলবিদ্যুৎ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি, আইসিটি, শিক্ষা, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সব সময়ই ভুটানের পাশে থেকেছে। আর এই চুক্তি স্বাক্ষরই ভুটানকে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণে বাংলাদেশের স্বীকৃতি।’