মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতায় অধ্যাপক খালেদের অবদান অবিস্মরণীয়ঃ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ

82

চট্টগ্রাম ডেস্ক।।

অধ্যাপক খালেদ ছিলেন জাতির বিবেক। মুক্তিযুদ্ধের সময় অধ্যাপক খালেদ একদিকে সাংবাদিকতা করতেন, অন্যদিকে মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি চিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম।

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার হলে দৈনিক আজাদীর প্রাক্তন সম্পাদক অধ্যাপক খালেদ এর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় এ মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনা সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক দিয়েছে। তার সাথে একইদিনে আমিও স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলাম। অধ্যাপক খালেদের সাথে একত্রে স্বাধীনতা পদক পাওয়া আমার জন্যেও গৌরবের। উনি আমৃত্যু আওয়ামী লীগের একজন আদর্শবান নেতা ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের অনুসারী ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনে অধ্যাপক খালেদের সাথে অনেকবার কথা হয়েছে। বিপদে যেমন হয়েছে, সুসময়েও কথা হয়েছে। খালেদ সাহেব ছিলেন আমার পথপ্রদর্শক। আমি যখনই কোনো সমস্যায় পড়তাম, তখন খালেদ সাহেবের সাথে দেখা করতে যেতাম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এমপি হোস্টেলে আমরা একই হলে ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কথা শোনার পর আমি কাঁদতে কাঁদতে অধ্যাপক খালেদের রুমে গিয়েছিলাম। দেশের ক্রান্তিলগ্নে উনি আমাকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে দলের দুঃসময়ে পার্টিকে পুনর্গঠনের সময় আমি উনার কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। অনেক উপদেশ, পরামর্শ পেয়েছি।

অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মরণসভা পরিষদ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান। সংগঠনের সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সাবেক চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগরের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, সাপ্তাহিক স্লোগান পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক ওয়েল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কমু, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, অধ্যাপক খালেদের সন্তান ও স্লোগান পত্রিকার সম্পাদক মো. জহির।

সভায় সাবেক চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯২২ সালের ৬ জুলাই বিহারের রাজধানী পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ। উনার বাবা ছিলেন বিহার সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। যে কারণে শৈশবে নান্দনিক পরিবেশে বড় হয়েছিলেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে এসেছিলেন অধ্যাপক খালেদ। ১৯৬২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের ইন্তেকালের পর তিনি আজাদী পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। সেই থেকে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি আজাদী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। উনি খুবই অমায়িক ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। যেকোন মানুষকে নিজের মতো করে নিতেন অধ্যাপক খালেদ।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, অধ্যাপক খালেদ বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে হাটহাজারী-রাউজান সংসদীয় আসনে জয়ী হয়েছিলেন। ওই সময়ে মীরসরাইয়ে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অধ্যাপক খালেদ সিধেসাদা চলাফেরা করতেন, কিন্তু চিন্তা চেতনা ছিলো অনেক উন্নত। উনি অনেক বিরাট বিষয়কে অল্পকথায় গুছিয়ে তুলে ধরতে পারতেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস বলেন, অধ্যাপক খালেদ সর্বগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ ছিলেন। উনি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমি যখন বাংলার বাণীতে ছিলাম, আমি খেলাপ্রিয় ছিলাম। তখন আমি আজাদীতে রিপোর্ট করার আগ্রহের কথা বলেছিলাম অধ্যাপক খালেদকে। উনি আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন। তাঁর বিশাল মন ছিল। সুন্দর ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ বলেন, অধ্যাপক খালেদ চট্টগ্রামের বিজয় মেলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বিএনপি ছাত্রদলের বাধার মুখেও বিজয় মেলায় যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের সাথে পাকিস্তানের জেনারেলের গোপন মিটিংয়ের ছবি আমরা ম্যুরালে এঁকেছিলাম। বিজয় মেলার কারণে বাংলাদেশের তরুণ যুব সমাজ আবার জেগে উঠেছিল। এর পেছনেও অধ্যাপক খালেদের অবদান রয়েছে।