চুরি ডাকাতি রোধে সজাগ গ্রামবাসী, লাঠি-বল্লম হাতে চলে রাতভর পাহাড়া

  |  সোমবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২১ |  ১১:০০ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি।।  রাত  ঠিক ১১টা। গ্রামের লোকজন লাঠি, বল্লম, বাঁশি, চার্জলাইট, নিয়ে এক এক করে আসতে শুরু করেন। দলে দলে বিভক্ত হয়ে গ্রামের প্রবেশ পথসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শুরু করছেন পাহারা দেওয়ার কাজ। গ্রামের ভিতরে অপরিচিত কাউকে দেখলেই তাকে ঘিরে ফেলছেন তারা। অপরিচিত হলে লিখে রাখছেন তাদের নাম ও ঠিকানা।

প্রতি রাতেই এমন চিত্র দেখা যায় সীতাকুণ্ডের প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়,  কিছুদিন আগে সীতাকুণ্ড বাঁশবাড়িয়া কোট্টা বাজার আলাম পুকুরপাড় হাজী রুস্তম আলীর বাড়ি চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা গেইটের তালা এবং ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদেরকে জিম্মি করে নগদ টাকা স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। তাছাড়া প্রতি রাতেই কোন না কোন স্থানে ডাকাতরা হানা দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে গ্রামের মধ্যে ডাকাতি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামে চুরি আতঙ্ক বিরাজ করায় বাধ্য হয়ে জানমাল রক্ষার্থে লোকজন চুরি, ডাকাতি রোধে সভা করে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতি রাতে দল বেধে পাহারা দেওয়া শুরু করেছেন।

বাঁশবাড়িয়া  এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের মাঝে এক প্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চুরি ডাকাতি রোধে পাহারা দেওয়ার কাজে ছাত্র, যুবক,ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন ছুটে আসছেন।

দলে দলে বিভক্ত হয়ে লাঠি, বাঁশি নিয়ে রাস্তায় ঘুরা ফেরা করছেন। প্রতিটি দলে থাকছে ১০-১২জন সদস্য। রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলছে পাহারা দেওয়ার কাজ।

গ্রামে চুরি ডাকাতির খবর পাওয়া মাত্র হৈ-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায়।

বাঁশবাড়িয়া যুবলীগ নেতা আমজাদ হোসেন রঞ্জু বলেন, চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতে ঘুম হতো না। সন্ধ্যা হলেই আতঙ্কে থাকতাম। গ্রামের লোকজন রাত জেগে পাহারা দেওয়ায় এখন আর আতঙ্ক নেই। এখন গ্রামবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে বলে জানান তারা।

তিনি আরোও বলেন, গত একমাসের ব্যবধানে আমাদের এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে চুরি-ডাকাতি হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মনে চুরি-ডাকাতির আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরি-ডাকাতি রোধে এলাকার জনগণ রাতের বেলা  পাহারা দিচ্ছে। অন্তত ৫০ জন যুবক বিভিন্ন ভাগে ভাাগ হয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাহারায় থাকে।

গ্রামবাসী বলেন, চুরি ডাকাতির ভয়ে এলাকার যুবকরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। রাত এগারোটা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পাহারা দেওয়া হয়। যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন পাহারা দেওয়া হবে।