বিএনপির সচেতন ভোটারদের নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান সুজনের

  |  শুক্রবার, জানুয়ারি ২২, ২০২১ |  ৬:১৫ অপরাহ্ণ

চসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জিতলে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারবে না মন্তব্য করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বিএনপির সচেতন ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে বিএনপিরও যারা সচেতন আছে চট্টগ্রামের স্বার্থে ও চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করে ফেলাটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শেখ হাসিনা যাকে প্রার্থী দিয়েছেন আমরা তাকেই চিন্তায় আনতে হবে।

তিনি আরোও বলেন, এটা এই জন্য যে চট্টগ্রামের স্বার্থে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির যেটা সুবিধা হচ্ছে সেটা হচ্ছে- এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে, অনেক দিন তারা রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সুজন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন আসলে উত্তাপ থাকে। এ উত্তাপ যেন আত্মঘাতী না হয়। এ উত্তাপ যেন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতিকে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না করে। ইচ্ছে করলে মিছিল মিটিং ছাড়াও নির্বাচন করা যায়। এখন মিডিয়ার যুগ। ফেসবুকের যুগ। ম্যাসেজ পাঠাতে পারেন। আমি মনে করি, যতটুকু হয়ে গেছে, আর কোথাও যেন সহিংসতা না হয়। সবাই প্রশাসনকে সাহায্য করুন। নির্বাচনের পর সবাই যেন একসঙ্গে আনন্দমুখর পরিবেশে কাজ করতে পারি।
আওয়ামী লীগ আমাদের দল। যোগ্য প্রার্থীকে নমিনেশন দিয়েছে। বিএনপি তাদের সভাপতিকে প্রার্থী করেছে। ইসলামিক ফ্রন্টসহ অন্যান্য দলও প্রার্থী দিয়েছে।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণি থেকে রাজনীতি করছি। সত্তরের নির্বাচনে তিন পোলের মাথায় দেশবাংলা হোটেলে দুইটা নানরুটি আর এক বাটি ডাল খেয়ে ঘোড়ার গাড়িতে পাবলিসিটি করেছি। স্থানীয়, জাতীয় নির্বাচন যাই হোক মনোনয়ন না পেয়েও কোনোদিন ঘরে বসে থাকিনি। অভিমান করে বসে থাকিনি। পলিটিক্স, নির্বাচন চলমান প্রক্রিয়া। হয়তো আজ পাইনি, আগামীতে পাব। আধুনিক রাষ্ট্রে দলের সিদ্ধান্তই হচ্ছে মুখ্য। সুতরাং দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।

এবার আমার জীবনের কঠিন সময়। এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছি না। যেহেতু আমার একটি দায়িত্ব আছে। আমার ভেতরে যে কষ্ট, খাঁচার পাখির মতো বন্দিশালায় আছি। সবাই মিছিল করছে, মিটিং করছে আমি দেখছি। আমি আগে কত স্লোগান দিয়েছি। প্রজন্মের প্রথম ভোট নৌকা দিয়ে শুরু হোক। ক্রিয়েটিভিটি কমে গেছে। আমার ভেতরের ছটফটানি কাউকে দেখাতে পারছি না।