মশক নিধনে তিন মহা পরিকল্পনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের

  |  মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১ |  ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
mosquito

মশক নিধন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে চট্টগ্রামসহ দেশের সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর জন্য তিনটি করণীয় ঠিক করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এগুলো হচ্ছে- মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের মান নিশ্চিত করা, মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলো নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ২০২১ সালের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এক্ষত্রে ‘জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর, মশকনিধন বছরভর’ নীতি অনুসরণ করা হবে। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে দুয়েক দিনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের কাছে চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শেষের দিকে ‘সারা দেশে মশক নিধন ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ’ কার্যক্রম পর্যালোচনায় জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা হয়েছিল। সভার রেজুলেশন গত সপ্তাহে প্রকাশ হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় মশক নিধন কার্যক্রমে গতি বাড়াতে তিনটি করণীয় ঠিক করে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

করণীয়গুলো হচ্ছে- সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহকে যথাযথ মান নিশ্চিত হয়ে ‘লার্ভিসাইড’ ও ‘এডাল্টিসাইড’ আমদানি করতে হবে। যাতে এডিস মশা ছাড়াও অন্য প্রজাতির মশা নিধন হয়। মশার লার্ভা নিধনকল্পে সময়োপযোগী কীটনাশক নির্বাচন, কার্যকর প্রয়োগ সম্পর্কে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহ নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এছাড়া মশার বংশবিস্তার রোধে বিগত এক বছরের কার্যক্রম, অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জসমূহ বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহ স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে ২০২১ সালের জন্য বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে মশার ওষুধের মান নিশ্চিতের বিষয়ে এমন সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সংগৃহীত ওষুধ কার্যকর কিনা সেটা নিয়ে আপত্তি ওঠেছে। সরকারের একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার লিটার লার্ভিসাইড সরবরাহে কার্যাদেশ দেয়া হয়। যা একই বছরের ১৪ মে সরবরাহ করা হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিকে দেয়া কার্যাদেশের ‘ক’ নং শর্ত ছিল সরবরাহকৃত লার্ভিসাইড অবশ্যই উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এর স্টার্ন্ডাড স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী হতে হবে। ‘জ’ নং শর্ত ছিল, মালামাল সরবরাহের পূর্বে ‘রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট’ (আইইডিসিআর) ও ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট’ ও ‘কীটতত্ত্ব বিভাগ’ থেকে পরীক্ষা করে রেজাল্ট উপস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু সরবরাহকৃত মালামাল উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এর স্টার্ন্ডাড স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কীনা যাচাই করা হয়নি। এছাড়া আইইডিসিআর পরীক্ষার ফলাফল প্রেরণ করা হয়েছে ২০২০ সালের ১০ জুন। অথচ লার্ভিসাইড সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ মে।
এ বিষয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে তৎকালীন চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশক ক্রয়ের সময় সরকারের তিনটি সংস্থা থেকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ইতোমধ্যে আমরা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে জমা দিয়েছি। মশার যেসব কীটনাশক সংগ্রহ করি সেগুলো পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া সারা বছরই মশক নিধনে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।