কোভিড-১৯: বাংলাদেশে টিকায় আগ্রহ বাড়ার কয়েকটি কারণ

  |  মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১ |  ৩:১১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে ৭ই ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচী শুরুর পর নানা ধরনের আশঙ্কার কারণে টিকায় আগ্রহী ছিলেন না অনেকে। কিন্তু তখন যে চিত্র ছিল – এখন তা অনেকটাই বদলে গেছে।

ওয়েবসাইটে নিবন্ধন নিয়ে সমস্যার অভিযোগ সত্ত্বেও শুরুর দুই দিন যত নিবন্ধন হয়েছিল – তা এখন বেড়েছে চারগুণ।

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক এবং ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড যৌথভাবে বিশ্বজুড়ে এক জরিপ পরিচালনা করেছে।

তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে জরীপে উত্তরদাতা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ শতাংশের মতো মানুষ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে আগ্রহী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউট জানুয়ারির শেষের দিকে একটি জরীপের রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। তখন দেখা গিয়েছিল যে ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা টিকা নিতে আগ্রহী ।

মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার খবর নেই
ঢাকার সাথী সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা সম্পর্কে শুরুতে সন্দিহান ছিলেন।

পাশের দেশ ভারত সহ আরও অনেক দেশে টিকা নেবার পর কারো কারো মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এমন খবরই ছিল তার দ্বিধা ও শঙ্কার মুল কারণ। কিন্তু তিনি এখন মত পরিবর্তন করেছেন।

তিনি বলছেন, “আসলে প্রথম থেকে অনেক খবর আমরা বাইরের দেশ থেকে পাচ্ছিলাম যে টিকা নেবার পর অনেকের অসুস্থতা দেখা দিয়েছে তখন মনে হয়েছিল টিকা নিতে যাওয়া কি ঠিক হবে। পরে দেখছি যারা টিকা নিচ্ছেন তারা খুব একটা এফেক্টেড হচ্ছে না।”

“আমার ভাইয়ের মেয়ে যে ডাক্তার তারও তেমন কোন সমস্যা হয়নি। এখন আমার মনে হচ্ছে টিকাটা নেয়া উচিৎ।”

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা সম্পর্কে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ভয় যেমন ছিল, তেমনই নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে যে টিকা নিলে শরীরের ডিএনএ বদলে যেতে পারে, যৌন ক্ষমতা কমে যাবে, বা নারীরা বন্ধ্যা

হয়ে যেতে পারেন । এসবের কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

বিনামূল্যে যদি না মেলে?

বাংলাদেশে এখন সরকারিভাবে বিনামূল্যে এই টিকা দেয়া হচ্ছে। পরে যদি মূল্য দিয়ে কিনতে হয়? দেশে এখন যে পরিমাণ টিকা আছে তা যদি ফুরিয়ে যায়?

এসব ধারণা থেকে অনেকেই এখন টিকা নিতে চাইছেন। সাথী সরকার বলছেন, “পরে যদি বাংলাদেশ সরকার আর টিকা আনতে না পারে? তখন তো আমি বাদ পড়ে যাব। আর এখন না নিলে হয়ত পরে টাকা দিয়ে বেসরকারিভাবে কিনতে হবে। তার দাম যদি বেশি হয়? সেটাও চিন্তা করছি।”

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ-এ জনস্বাস্থ্য বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন কাওসার আফসানা।

তিনি মনে করেন, “নানা ধরনের মানুষের সাথে কথা বলেছি। অন্যরা যাচ্ছে কিনা সেটা একটা বিষয়। যখন লোকজন দেখছে ও আরেকজন গেছে, তখন সেও গেছে। অনেকেই টিকা নিয়ে আত্মীয়দের জিজ্ঞেস করেছেন টিকার রেজিস্ট্রেশন করেছেন কিনা। এই যে একজন আর একজনকে বলছে এটা একে অপরকে মোটিভেশন দেবার ক্ষেত্রে কাজ করেছে

“আর একটা বিষয় এখানে কাজ করেছে যে আমাদের এখানে টিকা নেবার বয়স ৪০ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। তাতে টিকা নিবন্ধন বেড়েছে, আগ্রহী বেড়েছে।”

সংখ্যা যা বলে
টিকায় আগ্রহ যে বাড়ছে তা বোঝা যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যে।

ঢাকায় ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা হাসপাতালে একজন নার্সকে প্রথম টিকা দিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উদ্বোধন করা হয়।