নগর উন্নয়নে এমপিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান নওফেলের

  |  মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১ |  ৪:২৯ অপরাহ্ণ
নওফেল

শহরের উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নবনির্বাচিত মেয়রের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি বলেন, আমাদেরকেও সম্পৃক্ত করুন। আমরা যারা সরকারের সাথে কাজ করছি, আমাদের সমন্বয়টা যদি সুন্দরভাবে হয় তাহলে চট্টগ্রামবাসী নাগরিক সুবিধা অবশ্যই পাবে। সমন্বয়ের আহবান জানাবো। সহযোগিতামূলক মনোভাবের আহবান জানাবো। আমাদের নতুন নগরপিতা রেজাউল করিম চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে। উনার নেতৃত্বে আমরা সবাই আছি। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে একটি সুন্দর শহর গড়ে তুলবো।

চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর দায়িত্বগ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গতকাল সকালে নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভাপতিত্ব করেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দীন আহমদ, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চসিকের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চসিকের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম চৌধুরীসহ ২৬ জন বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে পারিবারিক কাজে কঙবাজার অবস্থান করায় উপস্থিত থাকতে পারেন নি সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চৌধুরী। যদিও চসিক নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিতে নিরলস কাজ করে দলের মধ্যে প্রশংসিত হন তিনি।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চট্টগ্রামে উপহার দিয়েছেন। এগুলো মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজ নগরপিতার মাধ্যমে করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। তিনি বলেন, আমরা দৃর্বৃত্তায়নের, সন্ত্রাসের চট্টগ্রাম চাই না।

আমরা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুনখারাবিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম চাই। নাগরিক সেবাটা নিশ্চিত হোক সবাইকে সাথে নিয়ে। পেছনের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। সামনের দিকে তাকাবো ঐক্যে ও সমন্বয়ের সাথে।

নওফেল বলেন, আমাদের অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু সেটা কখনই পূরণ হবে না যদি সবাই দায়িত্ব না নেয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এবং তিনি নির্বাচিত হয়েছেন- এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের বিষয়। সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেয়র হয়েছিলেন।

একজনের দেশপ্রেম, কর্মনিষ্ঠা আমরা দেখেছি। আরেকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছ থেকেও আমরা সেই একই কর্মনিষ্ঠা দেখতে চাই। এর প্রমাণ অবশ্য তিনি ইতোমধ্যেই দিয়েছেন, সবার মতামত গ্রহণ করেই তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন।

নওফেল বলেন, রেজাউল করিম চৌধুরী সংবর্ধনা নয়, মতামত গ্রহণ করছেন। এখান থেকে অনেক দিকনির্দেশনা আমরা পেয়েছি। এটা একটা শুভ সূচনা তিনি করেছেন।

মর্নিং শো’জ দ্যা ডে। এটার মাধ্যমেই বোঝা যাচ্ছে, একটা সুন্দর কিছুর সূচনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেমন সবাইকে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি আমাদের রেজাউল করিম চৌধুরীও সবার মতামত, সবার দিকনির্দেশনা শুনে দায়িত্ব নিচ্ছেন। এভাবে তিনি নিজের সৃষ্টিশীল চিন্তার উদাহরণ আমাদের মাঝে দিয়েছেন।

মেয়রের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রয়োজন নেই, বিভেদের প্রয়োজন নেই। সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, সব জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে আপনি চট্টগ্রাম নগরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করুন। মানুষের চাওয়া খুব সীমিত। আমরা এই শহরে সুন্দরভাবে বসবাস করতে চাই। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন শহর চাই।