বাঁশখালী ছনুয়া কাদেরিয়া সড়ক নরক যন্ত্রণায় এলাকাবাসী

  |  বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ |  ৪:০৮ অপরাহ্ণ

সড়ক নয়, যেন মিনি পুকুর। গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, মানুষের হাঁটাচলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে ছনুয়া কাদেরিয়া সড়কে। চেয়ারম্যান যায় আর আসে। কিন্তু উন্নয়ন হয় না জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের।বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, ছনুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার লাখো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম কাদেরিয়া সড়কটি ২০০৬ সালে এলজিইডির অর্থায়নে সংস্কার করা হয়।

সংস্কারের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এই সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে জরাজীর্ণ এ সড়কে চলাচল করা নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রী,ব্যবসায়ী ও হাসপাতালে রোগীদের আনা নেওয়ায় অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খানাখন্দকে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে কোনো না কোনো দূর্ঘটনা। রোগী আনা নেওয়াতে বেশি কষ্ট পোহাতে হয়। কারণ,সড়কটি নিজেই রোগী! বিকল্প সড়ক না থাকাতে চরম ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে,পুঁইছড়ি-ছনুয়া স্টিল ব্রিজ থেকে শুরু করে মনুমিয়াজী বাজার পর্যন্ত বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাছাড়া সড়কটি রাজাখালী আরবশাহ বাজার থেকে মনুমিয়াজী বাজার যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। বিকল্প সড়ক না থাকাতে ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা নেওয়ায় পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ।

অপরদিকে ছেলবন এলাকায় চিংড়ি ঘেরের গর্ভেও বিলীন হয়ে যাচ্ছে এই সড়ক। স্লুইচগেইট দিয়ে অতিরিক্ত পানি ঢুকিয়ে এ সড়কের ক্ষতিসাধন করা হয় প্রতি বর্ষা মৌসুমে। দক্ষিণা বাতাসে চিংড়ি ঘেরের পানির ঢেউয়ের ধাক্কা রাস্তায় এসে লাগে। ফলে রাস্তার মাটিও ঝরে যাচ্ছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ! বাজারে যাওয়া অন্যান্য কাজে এ সড়কে যাতায়াতের সময় চিংড়ি ঘেরের পানির ঢেউয়ে তাদের গায়ে পানি ছিটকে পড়ে।

বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এলাকাবাসীর মাঝে আশংকা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমের আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার। এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. মোস্তফা বলেন,’আমরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি স্কুলে আসা যাওয়ায়। অনেক সময় আছাড় খেয়ে কাঁদামাখা ইউনিফর্মে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে এই রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ছনুয়া ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, ‘মনুমিয়াজী বাজারের দক্ষিণে ছোট ছনুয়া যাওয়ার রাস্তাটারও করুণ দশা। বলতে গেলে পুরো দক্ষিণ ছনুয়ার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। বর্তমান চেয়ারম্যান হারুন সাহেব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছেন ওনার নিজ গ্রাম খুদুকখালীতে।’

আবু হানিফের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেল স্বয়ং চেয়ারম্যানের বক্তব্যে। গত ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ ছনুয়া মছন ফকির বাড়ি সমাজ কল্যাণ পরিষদের মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে চেয়ারম্যান এম.হারুনুর রশিদ দক্ষিণ ছনুয়ায় উন্নয়ন না করার বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেন।

এসময় তিনি বলেন, আপনারা হয়তো জানেন এ রাস্তাটা (কাদেরিয়া সড়ক) আমি ২-৩বার মাপাই গেছি। এখনো রাস্তাটা টেন্ডারে করতে পারিনি। দোয়া করবেন ২-৩ মাসের মধ্যে টেন্ডারে নিয়ে যাবো। অনেকে অনেক কিছু বলবে। এরকম ফেসবুকের রাজনীতি আমি করি না। অনেকে বলবে, আমি করতেছি। অমুখ করতেছি, সমুখ করতেছি। আমি কি করছি, না করছি, আপনারা হয়তো জানেন। এদিকে (দক্ষিণ ছনুয়া) কাজ কি কম হয়ছে, আমার খুদুকখালীর এদিকে কাজ বেশি হয়ছে। একটা কথা বলে, আগে মসজিদে চেরাগ, তারপর ঘরে চেরাগ দিয়ে বাইরে চেরাগ দেয়।মিথ্যা বলার কোন দরকার নাই। এখানে অতীতে চেয়ারম্যান ছিল ১৪ বছর।’

এই দিকে ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশীদের এমন বক্তব্যকে ঘিরে ছনুয়ার জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ছনুয়া ৩নং ওয়ার্ডের আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে বক্তব্য দিতে পারেন না। চেয়ারম্যান ওনার বক্তব্য বলেছেন, ’ওনার খুদুকখালীতে কাজ বেশি হয়েছে। শুধু খুদুকখালীটা ওনার এলাকা হবে কেন।পুরো ছনুয়ার মানুষ ওনাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করছে। কিন্তু খুদুকখালীকে আলাদা করে দেখাটা দুঃখজনক -যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশীদের ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার টি বন্ধ পাওয়া যায়।