বাঁশখালীতে বিলুপ্তির পথে হাজার বছরের ঐতিহ্যের মৃৎশিল্প

  |  শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ |  ৪:১১ অপরাহ্ণ
বাঁশখালী

এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে রান্নাবান্না, খাওয়া আর অতিথি আপ্যায়নসহ প্রায় সব কাজেই মাটির তৈরি হাড়ি পাতিলের ব্যবহার ছিল। স্বাস্থ্যকর আর সহজ লভ্য হওয়ায় সব পরিবারেই ছিল মাটির পাত্রের ব্যবহার।

শীতে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য হাড়ি, বাহারি চিতই, পুলি, বাঁপা পিঠাসহ নানা জাতের পিঠার জন্য খোলা, দধির পাতিল, টালি, বড্ডুয়া, ধুতি, ঘট, মুচি, মুটকি, থালা ও বাসনসহ বিভিন্ন মাটির সরঞ্জাম তৈরি করত গ্রাম বাংলার মৃৎ শিল্পীরা। সেগুলো ভ্যান বা মাথায় করে বিক্রি করে যা আয় হতো তা দিয়েই চলতো তাদের সংসার। খড়,কাঠি আর মাটির সঙ্গেই তাদের জীবনপণ যুদ্ধ ছিলো আজীবনের।

তাদের এই বিহারি মাটির তৈরি সরঞ্জাম দেখতে ভিড় জমাতো শত শত দর্শণার্থী। সময়ের প্রেক্ষাপটে হারিয়ে গেছে এসব চিত্র। আর কুমোর পেশা ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন পেশায় ধাবিত হচ্ছে তারা। এর ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্য আর গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি।

এক সময় বাঁশখালী পূর্বাঞ্চলের রুদ্র পাড়া,কুমোর পাড়া,বাণীগ্রামের সাধনপুর, আনন্দ বাজার,উত্তর চাম্বল,পূর্ব চাম্বল,পুর্ব নাপোড়া কুয়ার পাড়ার ২০০টির মত পরিবার মৃৎশিল্প নিয়ে কাজ করতো, এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি পরিবার মৃৎ শিল্প নিয়ে কাজ করে। যুগের পরিবর্তনে তারা কুমার পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় ধাবিত হচ্ছে। এর ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্য আর গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় নাপোড়ার এক মৃৎশিল্প পরিবারের সাথে।তাদের একজন মিঠুপাং পাল ও তার স্ত্রী জানান: এ পেশায় আর আগের মতো সংসার চলে না তাদের। খেয়ে না খেয়েই কাটে তাদের সংসার। এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় যাবার পুঁজি নেই বলে পেশা পরিবর্তন করতে পারছেন না তারা। এক সময় মাটি পেতাম বিনামূল্যে, আর গত দু’বছর আগেও তা ছিলো মাত্র চারশ’ টাকা প্রতি গাড়ি। আর এখন তা বারোশ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কাঁচামালগুলো পোড়াতে কাঠ আর খড়ের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। সব মিলিয়ে বাজারের সব কিছুর দাম বাড়লেও দাম বাড়েনি মাটির তৈরি সরঞ্জামের । একটি খোলা তৈরিতে প্রায় দশ টাকা খরচ হলেও বিক্রি হয় বারো টাকা।

এ সময় হরিকমল পাল নামে আরেকজন মৃৎশিল্প জানান, সরঞ্জামাদি তৈরিতে খরচের সাথে বাজার মূল্য নেই। এছাড়াও আগের মতো এখন আর মাটির পাত্রের চাহিদাও নেই। কারো প্রয়োজন হলে মাঝে মধ্যে নেন। বছরের অধিকাংশ সময়ই কাটে বসে থেকে। এ পেশায় থাকার কারণে আর কোনো কাজ করতে পারেন না তারা। এজন্য সংসার চালাতে কষ্ট হয়।