পঞ্চম দফায় ভাসানচর যাচ্ছে আরও ৩ হাজার রোহিঙ্গা

  |  মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১ |  ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন শিবির থেকে পঞ্চম দফায় আরও প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ভাসানচরের উদ্দেশ্যে আজ তাদের বাসে করে উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠ থেকে এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে ২১টি বাস ছেড়ে গেছে।

পরে বিকেলে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে আসা সর্বমোট ১১৮৬ জন রোহিঙ্গাকে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠ হতে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্যে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে একুশটি যাত্রীবাহী বাস।

কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসু দ্দৌজা নয়ন জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় যেতে আগ্রহী এ রকম প্রায় তিন হাজারেরও বেশি পঞ্চম দফায় ভাসান চর যাচ্ছেন। তাদের একটি বড় অংশ আজ উখিয়ার ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে চট্টগ্রামে উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে কাল বুধবার নৌ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের ট্রলারে করে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে এ সংখ্যা কম বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য এর আগে চতুর্থ দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে ৯হাজার ৭০৩জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার, তাঁরাও সেখানে রয়েছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পর থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

এছাড়া নতুন-পুরনো মিলে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ী এলাকায় শিবিরগুলোতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।