পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটিতে ৭ টি দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স

  |  শনিবার, মার্চ ১৩, ২০২১ |  ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের পোর্টসিটি ইন্টার্নেশনাল ইউনিভার্সিটিতে ৭ টি দেশের অংশগ্রহণে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে প্রযুক্তিগত টেকসই উন্নয়ন’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। দুইদিনব্যাপী এই কনফারেন্সটির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ।

শুক্রবার সকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কনফারেন্সের উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।
এসময় তিনি বলেন, ‘জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনসম্পদকে মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছি। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কনফারেন্স, গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রযুক্তিজ্ঞানে দক্ষ হয়ে দেশের অর্থনীতির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে পারে।’

৭ টি দেশের অংশগ্রহণে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে করণীয় অনুসন্ধানে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ‘আইসিএসডিটিআইআর-২০২১’ (ICSDTIR-2021) ।

শুক্রবার সকালে ১২ এবং ১৩ মাচের্র এ কনফারেন্সের আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশব্বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষকরা পুরকৌশল, কম্পিউটার প্রযুক্তি, বস্ত্রপ্রকৌশল এবং তড়িৎ প্রকৌশল বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং আলোচনা করবেন।

বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ মোট সাতটি দেশের গবেষকরা মোট ৩৯ টি গবেষণাপত্র এ এবারের কনফারেন্সে উপস্থাপন করবেন যার মধ্যে সেরা চারটি গবেষণাপত্রকে দেয়া হবে ৬০০ ডলার মূল্যমানের সম্মাননা।

কনফারেন্সের স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মো: নূরল আনোয়ার বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের জন্য যে সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে তার সাথে আছে বহুমুখী চ্যালেঞ্জও। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আমাদের উৎপাদন পদ্ধতি এবং এর সাথে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য করণীয় অনুসন্ধানে এ কনফারেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। মুুজিববর্ষে আয়োজিত এ কনফারেন্স বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত আধুনিক সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করি।

এ সময়ে তিনি কনফারেন্সে সফল করতে ভূমিকা রাখা শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা এবং কনফারেন্সে অংশ নেয়া গবেষকদের ধন্যবাদ জানান।

তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে এয়েছে। আমরা আমাদের শ্রমভিত্তিক অর্থনীতিকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অর্থনীতিতে পরিণত করার জন্য গবেষণা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আইটি পার্ক নির্মাণের মতো অনেকগুলো কৌশল গ্রহণ করেছি যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি বদলে যাবে, তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সিলিয়া শাহনাজ বলেন, প্রযুক্তি খাতে বিদেশনির্ভরতা কমাতে হলে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় মনোনিবেশ করতে হবে যাতে আমাদের দেশের পরিবেশ এবং প্রয়োজন অনুসারে স্থানীয় উদ্ভাবনীশক্তিকে কাজে লাগানো যায়।

কনফারেন্সের প্রথম দিনে কীনোট স্পিকার হিসেবে গবেষনা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সিলিয়া শাহনাজ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির (রুরকি) সহকারী অধ্যাপক ড. অভিক ভট্টাচার্য, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. খন্দকার এ মামুন, ‘আইইইই’ লাইফ ফেলো যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুর রহমান, ম্যানচেস্টার ফ্যাশন ইন্সটিটিউটের গবেষণা সহযোগী ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

১৩ মার্চ কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর।

উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষা ও গবেষণা খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও উৎপাদন খাতে যে ব্যাপক রূপান্তর চলমান তা মোকাবিলা করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতি বছরই বিভিন্ন কনফারেন্স, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির আয়োজন করে।

এবছর করোনা মহামারির কারণে কনফারেন্সটির মূল আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হলেও তাতে ভার্চুয়ালি অংশ নেয়া যাবে।